ভারতের ‘সান সিটি’ যোধপুর

নীল রঙে রাঙানো বাড়িগুলোর জন্য যোধপুর বিখ্যাত হলেও, রাজস্থানের এই শহরটি ভারতের ‘সান সিটি’ বা সূর্যের শহর নামেও পরিচিত। বছরের বেশির ভাগ সময়ই এখানকার আকাশ থাকে মেঘমুক্ত এবং ঝলমলে রোদে উজ্জ্বল। থর মরুভূমির কাছাকাছি অবস্থিত যোধপুরে রাজকীয় ঐতিহ্য, চোখধাঁধানো স্থাপত্য, জমজমাট বাজার এবং জিভে জল আনা খাবারের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ রয়েছে, যা একে রাজস্থানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

১৪৫৯ সালে রাও যোধা এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। রোদেলা আবহাওয়া ও মরুভূমির পরিবেশের কারণে এর নাম হয়েছে ‘সান সিটি’, আর চারপাশের নীল বাড়িগুলোর জন্য এর আরেক নাম ‘ব্লু সিটি’। থর মরুভূমির কাছে অবস্থানের কারণে যোধপুরে শীতকালেও আকাশ পরিষ্কার এবং দিনগুলো উষ্ণ থাকে। ঐতিহাসিকভাবে, এখানকার রাঠোর শাসকেরাও সূর্যকে ক্ষমতা ও শক্তির প্রতীক মনে করতেন, যা এই নামের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যোধপুরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ৪০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ভারতের অন্যতম বৃহৎ দুর্গ মেহরানগড় ফোর্ট। এখান থেকে পুরো শহরের নীল বাড়িগুলোর দৃশ্য দেখা যায়। কাছেই রয়েছে মার্বেল পাথরের তৈরি সুন্দর স্মৃতিসৌধ ‘জসবন্ত থাড়া’, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মারওয়ারের তাজমহল’ বলা হয়। এ ছাড়া রয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক কুয়া ‘তূরজী কা ঝালরা’ এবং শান্ত পরিবেশের ‘মান্দোর গার্ডেনস’।

খাবারের দিক থেকে যোধপুর বেশ সমৃদ্ধ। এখানে এলে পর্যটকেরা ডাল বাটি চুরমা, লাল মাস, কের সাঙ্গরি এবং গাট্টে কি সবজি খেয়ে থাকেন। ‘জিপসি রেস্তোরাঁ’ কিংবা স্থানীয় ‘শ্রী অরোরা নামকিন অ্যান্ড সুইটস’ এবং ‘পোকার সুইটস’-এর জিলিপি, রাবড়ি ও গুলাব জামুন বেশ জনপ্রিয়। কেনাকাটার জন্য ‘ক্লক টাওয়ার মার্কেট’ মশলা ও হস্তশিল্পের জন্য সেরা। আর ‘নাই সড়ক’ ও ‘সোজতি গেট’ বাজারগুলো বান্ধানি কাপড়, গহনা ও জুতির জন্য বিখ্যাত।

সূত্র: এনডিটিভি