ভারতে চলতি গ্রীষ্মে বাজারে কালোজামের ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। গত বছর যেখানে ফলন কম ছিল, এবার সেখানে গাছগুলো জামে ছেয়ে গেছে। জামের এমন অস্বাভাবিক প্রাচুর্য দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রচলিত লোককথা ছড়িয়ে পড়েছে, গ্রীষ্মে জামের অতিরিক্ত ফলন হলে নাকি সেই বছর তীব্র খরার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বিজ্ঞান কি এর সঙ্গে একমত?
উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী, মার্চ-এপ্রিলে জামের মুকুল আসার সময়ে বৃষ্টি হলে পরাগায়ন ব্যাহত হয় এবং কচি ফল ঝরে পড়ে। তবে ২০২৬ সালের প্রাক-বর্ষা বসন্তকাল ছিল অস্বাভাবিক শুষ্ক। জুন মাসে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪০ থেকে ৫৪ শতাংশ। কৃষকদের জন্য এই শুষ্ক আবহাওয়া দুশ্চিন্তার হলেও জামের ফলনের জন্য তা ছিল একদম আদর্শ।
অনলাইনে অনেকে দাবি করছেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গাছ প্রতিকূলতায় টিকে থাকার লড়াই করছে এবং ভবিষ্যতের খরার আভাস পেয়ে বংশবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত শক্তি দিচ্ছে। তবে উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা এই ধারণা সংশোধন করে বলেছেন, জামের এই বাম্পার ফলন অতীতের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে হয়েছে, এটি ভবিষ্যতের খরার কোনও পূর্বাভাস নয়।
তবে এই শুষ্ক আবহাওয়ার পেছনে একটি বড় জলবায়ুগত কারণ রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর ১১ জুন ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে, যা মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়। আইএমডি ইতোমধ্যে তাদের বর্ষার পূর্বাভাস কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯০ শতাংশ করেছে। অর্থাৎ জামের জন্য যা উপহার, কৃষকদের জন্য তা অন্ধকার বার্তা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন শুষ্ক বসন্ত ঘন ঘন আসছে। তবে তাপমাত্রা আরও বাড়লে এবং পানির স্তর স্থায়ীভাবে নেমে গেলে একসময় এই খরা-সহনশীল জাম গাছও সংকটে পড়বে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে