১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম আজ (১২ আগস্ট) ইউরোপের কিছু অংশে দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এটি আর্কটিক, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এটি সরাসরি দেখা না গেলেও বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গ্রহণটি শুরু হবে রাত রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে পূর্ণগ্রাস শুরু হয়ে ১১ টা ৪৬ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। পূর্ণগ্রহণ থাকবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
ঐতিহ্যবাহী হিন্দু পঞ্জিকার (পঞ্চাঙ্গ) নিয়ম অনুযায়ী, যেসব অঞ্চলে সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দৃশ্যমান হয়, কেবল সেখানেই ধর্মীয় রীতিনীতি ও সূতক কাল প্রযোজ্য হয়। তবে গ্রহণ সরাসরি দেখা না গেলেও মানুষের অনুভূতি ও মানসিকতায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন অনন্ত দৃষ্টি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান জ্যোতিষী আচার্য পূনম দত্ত।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের কথা উল্লেখ করে পূনম দত্ত জানান, যখনই কোনও গ্রহণ ঘটে, তখন সূর্য, চন্দ্র, রাহু ও কেতুর অবস্থান মিলিয়ে তার হিসাব করা হয়। সূর্য মূলত মানুষের আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্য ও দিকনির্দেশনার প্রতীক। তাই গ্রহণের কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যও মানুষের মনের স্থিতিশীলতা কিছুটা নড়বড়ে হতে পারে।
গ্রহণের এই সময়ে মানুষ অতিরিক্ত চিন্তা করা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া কিংবা কোলাহল থেকে দূরে সরে যাওয়ার এক অদ্ভুত তাগিদ অনুভব করতে পারে। এই কারণেই বয়স্করা গ্রহণের দিনে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি ভয়ের কিছু নয়, বরং সঠিক টাইমিংয়ের বিষয়। একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য পরিচ্ছন্ন মনের প্রয়োজন, যা এই ধরনের দিনে তৎক্ষণাৎ না-ও মিলতে পারে।
এই সময়ে জীবনের সবকিছুকে একটু গুটিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়ে জ্যোতিষী পূনম জানান, সব সমস্যার সমাধান বা জটিল আলোচনা আজই করতে হবে এমন কোনও কথা নেই। সামান্য প্রার্থনা, গোসল করা, শান্তিদায়ক কিছু পড়া কিংবা কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখাটাই যথেষ্ট হতে পারে। দিনটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করতে বড় কোনও আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।
তাছাড়া গ্রহণের প্রভাব সচরাচর সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় না। নেপথ্যে ঘটনাপ্রবাহ চলতে থাকে এবং কয়েকদিন পর বিভ্রান্তিকর কোনও বিষয় হঠাৎ স্পষ্ট হতে শুরু করে। পুরনো কোনও এড়িয়ে যাওয়া চিন্তা ফের মাথায় আসতে পারে কিংবা পুরনো কোনও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন রূপ নিতে পারে।
তাই সূর্যগ্রহণের দিনটিতে নিজের এবং চারপাশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। মেজাজ বা প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে দিনটিকে স্বাভাবিকভাবে পার হতে দেওয়াই ভালো। যা স্পষ্ট হওয়ার, তা যথাসময়ে নিজেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ আজ, কখন কোথায় দেখা যাবে?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণে নামবে অন্ধকার, দেখা মিলবে বিরল সূর্যাস্ত






