চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে এবং দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতে নির্বাসিত জীবন থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে চলতি বছরই তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন।

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা শেখ হাসিনা এনডিটিভিকে বলেন, তার ফেরা কোনও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়, এটি জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে তিনি ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেন।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কেবল কাগুজে সংগঠন নয়, এটি মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে দেশে কোনও গণতন্ত্র, আইনের শাসন বা নিরাপত্তা নেই বলে দাবি করেন তিনি।  এনডিটিভিকে তিনি বলেন, দমন-পীড়নের কারণে দল প্রতিদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জিতবে জেনেই দলটিকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।

ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ গণ্য করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান এবং জাতির পিতার বাসভবনে বারবার হামলা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের আমলে ২০২৩ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২৫ শতাংশ এবং দেশ ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল।

বাংলাদেশে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারও এই ঘটনাগুলো অস্বীকার করছে। সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন।

ভারতে নিজের বর্তমান জীবন প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এনডিটিভিকে জানান, ১৯৭৫ সালে সব হারানোর পরও তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসনে কাটাতে হয়েছিল। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ থাকলেও তার মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে।

দূর থেকে প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন,  শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের এই সংগ্রামের সঙ্গেই থাকবেন।