কেরালাকে ছাড়িয়ে ভারতের ‘নারিকেল রাজধানী’ এখন কোন রাজ্য

মশলাদার কারি, ক্রিমি চাটনি কিংবা এক গ্লাস ডাবের পানি; ভারতীয় খাবার আর সংস্কৃতির সঙ্গে নারিকেল যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। উৎসবের মিষ্টি থেকে শুরু করে ধর্মীয় আচার কিংবা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা, সবখানেই এর ব্যবহার। আর ‘নারিকেল’ শব্দটির সঙ্গেই দশকের পর দশক ধরে যে রাজ্যের নাম সবার আগে জড়িয়ে ছিল, সেটি হলো কেরালা। এমনকি রাজ্যটির নামও মালয়ালম শব্দ ‘কেরা’ (যার অর্থ নারিকেল) থেকে এসেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই চেনা সমীকরণ বদলে গেছে। নারিকেল উৎপাদনে কেরালাকে পেছনে ফেলে ভারতের নতুন ‘নারিকেল রাজধানী’ হয়ে উঠেছে কর্ণাটক।

কোকোনাট ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল বাগান, অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক চাষপদ্ধতির ওপর ভর করে কর্ণাটক এখন ভারতের শীর্ষ নারিকেল উৎপাদনকারী রাজ্য। রাজ্যের তুমাকুরু, হাসান, মান্ডিয়া, মহীশূর, উডুপি, দক্ষিণ কন্নড় ও চিকমাগালুর জেলা দেশের মোট নারিকেল উৎপাদনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে। বিস্তীর্ণ নারিকেল বাগান, কচি ডাব, শুকনা নারিকেল (কোপরা), নারিকেল তেল ও ছোড়ার আঁশ দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি নারিকেলের বহুমুখী প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে রাজ্যটি দারুণভাবে এগিয়ে গেছে।

অনুকূল ক্রান্তীয় জলবায়ু, উর্বর মাটি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং প্রতি হেক্টরে উচ্চ উৎপাদনশীলতার কারণে কর্ণাটক আজ ভারতের নারিকেল শিল্পের নতুন পাওয়ার হাউস। এই শিল্প এখন কর্ণাটকের গ্রামীণ অর্থনীতি ও হাজার হাজার কৃষকের জীবিকার মূল চালিকাশক্তি।

রাজ্য স্তরে কর্ণাটক শীর্ষে থাকলেও, শহরের দিক থেকে ভারতের ‘নারিকেল শহর’ তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর জেলার পোল্লাচি শহরটির নাম বেশ পরিচিত। মাইলের পর মাইল নারিকেল বাগান, আঁশ শিল্প এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ নারিকেল বাণিজ্য কেন্দ্রের জন্য শহরটি বিখ্যাত। তবে সামগ্রিক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু কিংবা কেরালার চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে থেকে ভারতের নারিকেল রাজধানীর মুকুটটি এখন কর্ণাটকের মাথাতেই শোভা পাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি