রফতানিতে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত অগ্রগতির ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের অর্থনীতি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোও চীনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান আস্থা প্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যের বৈদেশিক চাহিদা প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সহায়ক হবে। তবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর দিকেও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
চীনের প্রথমার্ধের অর্থনৈতিক ফলাফলের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় এ মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদরা। আগামী সপ্তাহে ওই পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪.৬ শতাংশে উন্নীত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, শক্তিশালী সরকারি বিনিয়োগ, উচ্চ প্রযুক্তি উৎপাদন এবং রফতানির কারণে প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকও জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ প্রযুক্তি খাতে স্থিতিশীল বিনিয়োগ এবং রফতানি এ বছর চীনের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ চায়না ইকোনমিক আপডেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশে নেমে এলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির চীন ৪.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশেষ করে উচ্চ প্রযুক্তি ও উচ্চ মূল্য সংযোজিত উৎপাদন খাতের শক্তিশালী রফতানি এবং এআইনির্ভর দ্রুত শিল্পোন্নয়ন চীনের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
মরগান স্ট্যানলির প্রধান চীনা অর্থনীতিবিদ রবিন সিং বলেন, বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক গতি মূলত রফতানি প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তার মতে, এআই হার্ডওয়্যার, বৈদ্যুতিক যানবাহন, জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ এবং বায়ুশক্তির মতো খাতে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এসব খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের রফতানি অংশীদারত্বও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
চীনের সাধারণ শুল্ক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে উচ্চপ্রযুক্তি ও উচ্চ মূল্য সংযোজিত যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক পণ্যের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৪ শতাংশ বেড়ে ৭.৫৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে (প্রায় ১.১১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌঁছেছে। এটি দেশের মোট রফতানির ৬৩.৬ শতাংশ।
চীনের অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকে বছরে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা সরকারের নির্ধারিত ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার সর্বোচ্চ সীমায় রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে থাকতে পারে। অনেকেই পূর্বাভাস দিয়েছেন, প্রথমার্ধে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪.৫ থেকে ৪.৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে।
চায়না মিনশেং ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ওয়েন পিন বলেন, অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি হলো শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা, যা এ বছরের সরকারি কর্মপ্রতিবেদনে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডয়চে ব্যাংকের চীন বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সিয়োং ই বলেন, সরকার বিশেষ করে সেবা খাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে আরও নীতি গ্রহণ করবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, তেলের দাম কমে আসার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার হওয়াই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
সূত্র: সিএমজি