গড় আয়ু ৮০ করার মহাপরিকল্পনা চীনের

দেশের মানুষের গড় আয়ু ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ বছরে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) সময়কালের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী এই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিষদ প্রকাশিত এই মহাপরিকল্পনা মূলত জনস্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং ‘সুস্থ চীন’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা।

স্বাস্থ্যসেবায় ন্যায্য প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রধান স্বাস্থ্য সূচকগুলোকে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ। এতে জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে চীনে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭৯ দশমিক ২৫ বছর।

রূপরেখায় ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ধূমপানের হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা ও ধূমপান ত্যাগে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্তান জন্মদানে সহায়ক নীতিমালার সংস্কার, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা মানসম্মত করা এবং প্রজনন প্রযুক্তির নিয়মতান্ত্রিক প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে।

নারীস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের স্ক্রিনিং, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে চীনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীরা বিনামূল্যে দুই ডোজ বাইভ্যালেন্ট এইচপিভি টিকা পাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে দেশীয় ও আমদানিকৃত উভয় টিকাই রয়েছে এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে চীনের প্রথম নিজস্ব উদ্ভাবিত নাইন-ভ্যালেন্ট এইচপিভি টিকা প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়।

বয়স্কদের জন্য ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার, বার্ধক্যজনিত বিশেষ হাসপাতাল গড়ে তোলা, গৃহভিত্তিক প্রবীণসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধী ও স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত প্রবীণদের সেবাব্যবস্থা উন্নত করার কথা বলা হয়েছে এই পরিকল্পনায়।

এ ছাড়া নতুন শিল্পখাতে যুক্ত কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর পেশাগত রোগের ঝুঁকি শনাক্তকরণ, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার এবং অসুস্থতার কারণে মানুষ যাতে দারিদ্র্যের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় স্বাস্থ্য সহযোগিতা গভীর করা এবং বিদেশে চিকিৎসা সহায়তা সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের জুনের শেষ নাগাদ চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি ১৬০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি এবং চীন-আফ্রিকা, চীন-আরব ও চীন-আসিয়ানসহ নয়টি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা ব্যবস্থা সূচনা বা অংশগ্রহণ করছে চীন।

সূত্র: সিএমজি