ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পুলিশের চরম উদাসীনতার এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। একটি পিঙ্ক পুলিশ বুথ (নারী পুলিশ)-এর বাইরে সাহায্য চেয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আকুতি জানানোর পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছেন ২২ বছর বয়সী এক যুবক। ঘটনার সময় বুথে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা ভয়ে ভেতরে নিজেদের তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত যুবকের নাম রাজ কুমার, যিনি পেশায় একজন গাড়ি মেকানিক ছিলেন। রবিবার (১২ জুলাই) অটোরিকশার ভাড়ার মাত্র ২০ টাকা নিয়ে চালকের সঙ্গে বিবাদের জেরে রাজ কুমার বুথে পৌঁছান। গাজিয়াবাদের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) উপাসনা পান্ডে জানান, ঘটনার সময় রাজ কুমার এবং অটোরিকশাচালক উভয়েই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ভাড়ার টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে তারা বুথের সামনে আসেন। মদ্যপ অবস্থায় রাজ কুমার বুথের দরজায় আঘাত করলে কাচ ভেঙে তার হাত গভীরভাবে কেটে যায় এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বুথে থাকা নারী পুলিশ কর্মীরা রাজ কুমারদের পাশের একটি থানায় যেতে বলেন, যেখানে পুরুষ পুলিশ রয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজ লোহার দরজায় এবং পরে কাচের দরজায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। কাচ ভেঙে হাত কেটে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেও বুথের ভেতরের নারী পুলিশ সদস্যরা ভয়ে দরজা বন্ধ করে ভেতরেই অবস্থান করেন। এক স্থানীয় দোকানদার পুলিশ হেল্পলাইনে ফোন করলে দুই পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলে আসেন, কিন্তু কোনও অটোরিকশা আহত রাজকে হাসপাতালে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে আধা ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স এলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এফআইআর অনুযায়ী, হাসপাতালে নিতে অন্তত এক ঘণ্টা দেরি হয়েছে।
এই মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। রাজ কুমারের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুড়িয়া দেবী তার স্বামীর মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন। বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা রাজ কুমারের পরিবারে দুই বছর ধরে কোমায় থাকা বাবা এবং এক মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ভাই রয়েছেন। রাজের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার ছেলে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ছটফট করছিল, তখন পুলিশ বা কেউ তাকে সামান্যতম সাহায্য করেনি। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি