১৫০ কোটির সম্পত্তির মালিক তিনি, বাড়িতে লোভী ছেলের গুলিতে হলেন খুন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের মোদিনগরে জমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গভীর রাতে সম্পত্তি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিজের ৫২ বছর বয়সী বাবাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছেন তারই বড় ছেলে। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক অস্ত্রসহ পালিয়ে গেছেন এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের ৪টি দল গঠন করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম হরিওম চৌধুরী। তিনি মোদিনগর থানা এলাকার বুদানা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী কৃষক হিসেবে পরিচিত হরিওমের মোদিনগরে ৭৫ বিঘা জমি এবং দিল্লি-মিরাট রোডে একটি বড় মার্কেট রয়েছে। তার মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫০ কোটি রুপি। হরিওমের পরিবারে তার স্ত্রী অনিতা ও ছোট ছেলে নীশু রয়েছেন।

মোদিনগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) ভাস্কর বর্মা জানান, হরিওমের ৩২ বছর বয়সী বড় ছেলে নিখিল চরম মদ্যপ ছিলেন এবং এ নিয়ে বাবা প্রায়ই তাকে বকাঝকা করতেন।

হরিওম চৌধুরী ইতোমধ্যে বড় ছেলে নিখিলকে মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান এবং ২৫ বিঘা জমি লিখে দিয়েছিলেন। তবে নিখিল বাকি সম্পত্তিও নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বাবা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, নিখিল এই সম্পত্তি মদ ও অন্যান্য বিলাসিতায় উড়িয়ে নষ্ট করে ফেলবেন। পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে হরিওম তার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে রাতের খাবার শেষ করেন। গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন নিখিল। মদ খাওয়া নিয়ে বাবা বকাঝকা করলে তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নিখিল পিস্তল বের করে বাবার মুখে গুলি করেন। হরিওম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নিখিল তার মুখ, বুক ও পেটে আরও কয়েকটি গুলি চালান। নিহতের শরীরে ৪ থেকে ৬টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, নিখিল মদের অর্থের জন্য প্রায়ই তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। এর আগে ২০১৮ সালেও এক পারিবারিক বিবাদের জেরে নিখিল তার ছোট ভাই নীশুকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। পুলিশ এখন সেই পুরোনো মামলাটিও নতুন করে খতিয়ে দেখছে।

সূত্র: এনডিটিভি