ফেসবুক প্রেমিকার টানে বিনা ভিসায় সীমান্ত পার: শেষ পর্যন্ত মিললো না প্রেম, ঠাঁই হলো জেলে

ফেসবুকে পরিচয় হওয়া প্রেমিকার টানে ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের এক যুবক বিনা ভিসায় সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি; ভাষার কারণে ধরা পড়ে এখন তার ঠাঁই হয়েছে লাহোরের কোট লখপত জেলে। এমনকি সাজা শেষ হওয়ার পরও স্বদেশে ফিরতে না পেরে এখনও তিনি বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আর এদিকে তার পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছে।

দিল্লিতে দর্জির কাজ করা বাদল বাবু নামের ওই যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে সানা নামের এক পাকিস্তানি তরুণীর বন্ধুত্ব হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বাদলের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়েছিল। বাড়ি থেকে সব নথিপত্র ফেলে রেখে হঠাৎ উধাও হয়ে যান তিনি। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ও পোস্ট দেখে পরিবার জানতে পারে যে বাদল অবৈধভাবে পাকিস্তানে ঢুকে গ্রেফতার হয়েছেন।

পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথমবার ব্যর্থ হলেও পরে ১৫ অক্টোবর কোনও ভিসা ছাড়াই সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছান বাদল। তবে সানা তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর বাদল ভারতেই ফিরে না এসে পাকিস্তানেই থেকে যান এবং একটি কাজ নেন। সেখান থেকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও রাখতেন। বিপত্তি ঘটে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর, যখন তিনি মালিকের ছাগল চরাচ্ছিলেন। তার কথা বলার ধরন ও ভারতীয় টান শুনে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পুলিশ তাকে গ্রেফদতার করে আদালতে পাঠায়।

সে সময় আদালত চত্বর থেকে বাদলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আইনজীবীর সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে করা ওই ভিডিও কলে বাদলকে বলতে শোনা যায়, আমি এখন আর ফিরব না। তোমরা চিন্তা কোরও না, আমি ধর্ম পরিবর্তন করেছি।

বাদল বর্তমানে লাহোরের কোট লখপত জেলে বন্দি আছেন। পরিবারের দাবি, তার সাজার মেয়াদ শেষ হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। বাদলের পরিবার ভারত সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে। আলিগড় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠিয়েছে এবং আলিগড়ের সংসদ সদস্য সতীশ গৌতমও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছেন। বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারী পাকিস্তানের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাদলের মুক্তির বিষয়ে সহায়তা করছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে