ভারতে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ৫৫৪ জন স্বামী খুন হয়েছেন অথবা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। গুরুগ্রামভিত্তিক এনজিও একম ন্যায় ফাউন্ডেশন-এর প্রকাশ করা এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের ১৪ জুলাই পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩২২ জন স্বামীকে তাদের স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রেমিক মিলে হত্যা করেছে। অন্যদিকে পারিবারিক বিবাদ, পারিবারিক নির্যাতন, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার কারণে আত্মহত্যা করেছেন ২৩২ জন স্বামী। অর্থাৎ, বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ জন স্বামী খুন হয়েছেন এবং ১ জনেরও বেশি স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এগুলো কেবল গণমাধ্যমে আসা ঘটনার হিসাব, সরকারি কোনও তথ্য নয়। গণমাধ্যমের বাইরে থাকা ঘটনা হিসাব করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বামী খুনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। ৩২২টি খুনের ঘটনার মধ্যে ১৯৪টিই (৬০ দশমিক ২ শতাংশ) ঘটেছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে। স্ত্রীরা তাদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বাধা পাওয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে স্বামীদের হত্যা করেছেন। হত্যার জন্য বিষপ্রয়োগ, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, শ্বাসরোধ করা, মরদেহ টুকরো টুকরো বা পুঁতে ফেলা এবং হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার মতো পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৮৮টি (২৭ দশমিক ৩ শাতংশ) খুনের ঘটনা ঘটেছে পারিবারিক বিবাদের জেরে।
২৩২টি আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক বিবাদকে প্রধান কারণ (৪৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া স্ত্রী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হয়রানির কারণে ৫৭ জন এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জটিলতায় ২৯ জন স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি ৯৩ জন স্বামী খুন এবং ১০৩টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
চলতি বছরের ২৫টি সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামীদের শিরশ্ছেদ করা, ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে ফেলা কিংবা জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেক স্বামী আত্মহত্যার আগে ভিডিও বার্তা বা সুইসাইড নোটে দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার যন্ত্রণার কথা লিখে গেছেন।
একম ন্যায় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজ বলেন, প্রতিটি ঘটনা কেবল একটি প্রাণ হারানো নয়, বরং একটি পরিবারের ধ্বংস হয়ে যাওয়া। কেতান আগরওয়ালকে তার বাগদত্তা সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন মিলে হত্যা করার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। কিন্তু এমন ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে।
সরকারি অপরাধ তথ্যে পুরুষ নির্যাতন বা স্বামী খুনের জন্য আলাদা কোনও শ্রেণিবিন্যাস না থাকায় এই সমস্যার আসল ভয়াবহতা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে