খাবার ডেলিভারির ফাঁকে রসিদের কাগজে লিখে রাখা একগুচ্ছ কবিতা চীনের অন্যতম শীর্ষ সাহিত্য পুরস্কার লু শুওন সাহিত্য পুরস্কার এনে দিয়েছে ৫৬ বছর বয়সী ওয়াং জিবিংকে। সাধারণ ডেলিভারি রাইডারদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা তার কাব্যগ্রন্থ ‘লো ফ্লাইট’ এই সম্মানজনক পুরস্কার জিতে নিয়েছে। আধুনিক চীনা সাহিত্যের জনক হিসেবে পরিচিত লু শুওনের নামে এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়।
কয়েক দশক ধরে নির্মাণ শ্রমিক, বর্জ্য সংগ্রাহক ও হকার হিসেবে কাজ করার পর ২০১৯ সালের দিকে ফুড ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন ওয়াং জিবিং। আর্থিক অনটনের কারণে কৈশোরেই পড়ালেখা ছাড়তে হলেও পড়ার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অটুট। গত এক দশক ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে আসছিলেন। ২০১৯ সালে এক গ্রাহকের ভুল ঠিকানার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরতে হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে ২০২২ সালে লেখা তার ‘ম্যান ইন আ হারি’ কবিতাটি ইন্টারনেটে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ২০২৩ সালে একই নামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত পুরস্কারজয়ী ‘লো ফ্লাইট’ বইটি লিখতে তিনি প্রায় ২০০ জন ডেলিভারি রাইডারের সাক্ষাৎকার ও জরিপ করেছিলেন। বইটির একটি পঙ্ক্তি এমন, ‘কে বলেছে ডানা মেলা মানেই উঁচুতে ওড়া? নিচু হয়ে ওড়াও তো একধরনের ওড়া।’
পুরস্কার জয়ের খবর পেয়ে ওয়াং জিবিং বলেন, আমি শ্বাস বন্ধ করে ভীষণ নার্ভাস হয়ে ছিলাম... ফল প্রকাশের পর সব দুশ্চিন্তা কেটে গেছে।
তবে এই বিশাল স্বীকৃতি পেলেও চাকরি ছাড়ার কোনও ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আর্থিকভাবে জীবনধারণের জন্য আমার এখন আর এই চাকরির প্রয়োজন নেই, তবে কাজের এই পরিবেশ আমি পছন্দ করি এবং এটি আমাকে সুস্থ রাখে। আমি মাটির কাছাকাছি জীবন চাই এবং এই পুরস্কার আমার পরিচয় কখনো বদলে দেবে না।
চীনের বিশাল গিগ ইকোনমিতে কর্মরত সাধারণ শ্রমিকদের জীবন সংগ্রামের কথা তাদের নিজস্ব লেখায় ফুটে ওঠার যে ধারা তৈরি হয়েছে, ওয়াং জিবিং তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এর আগে ২০২৩ সালে হু আনইয়ানের ‘আই ডেলিভার পার্সেলস ইন বেইজিং’ এবং ২০১৭ সালে ফ্যান ইউসুর আত্মজৈবনিক রচনা চীনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আর যে সাহিত্যিকের নামে এই পুরস্কার, সেই লু শুওন আধুনিক তরুণদের মাঝে আজও সমান প্রাসঙ্গিক; তার উপন্যাসের চরিত্র ‘কং ইজি’ সম্প্রতি চাকরিহীন চীনা তরুণদের হতাশার প্রতীক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি