ভারতের রাজধানীতে মঙ্গলবার নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে যাওয়া এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার পর কংগ্রেসের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ও কংগ্রেসের নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকেও আটক করা হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার পরদিন কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াতে মঙ্গলবার দুপুরে রাহুলের সঙ্গে যোগ দেন মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারা কংগ্রেস সভাপতির বাসভবন মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন। নজিরবিহীনভাবে একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিক্ষোভস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধী রাস্তায় বসে অবস্থান নেন এবং সরতে অস্বীকৃতি জানালে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়।
বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হওয়ার আগে একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, রাহুল গান্ধী সারা রাত এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভেবেছেন উত্তর না দিয়ে, পরিণাম না ভুগে তিনি পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি তা পারবেন না, এবার অন্তত নয়। দেশের যেসব দেশপ্রেমিক মানুষ বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীরা সুবিচারের যোগ্য, তাদের প্রতি আমার আহ্বান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠকে উপেক্ষা করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং রাহুল গান্ধীর বৈঠকের পর কংগ্রেস নেতারা জানান, তাদের আলোচনা অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
পরবর্তীতে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করে বলেন, রাহুল গান্ধী তাকে কথা দিয়েছিলেন যে সরকার যদি নিট ও প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে রাজি হয়, তবে কংগ্রেস তাদের বিক্ষোভ তুলে নেবে; কিন্তু তিনি পরে তার কথা থেকে সরে এসেছেন।
মন্ত্রীর এই বিবৃতির পরপরই পুলিশ বিক্ষোভ ভেঙে দেওয়া শুরু করে।
সোমবার সিজেপির সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও যুবকদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (রাফ)। নিটসহ অন্যান্য প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা সিজেপি জানিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর পাথর ছুড়েছে, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং বড় ধরনের সহিংসতা চালিয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি