চান্দিপুরা ভাইরাসে রাজস্থানে শিশুর মৃত্যু, গুজরাটে শনাক্ত ১২

ভারতের গুজরাটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজস্থানের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারে এ তথ্য জানান একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অন্যদিকে গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়া জানিয়েছেন, চলতি বছর রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৬৩টি সন্দেহভাজন কেস রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং আটজন রোগী মারা গেছেন।

বানাস মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ড. সুনীল জোশী জানান, রাজস্থানের সিরোহি জেলার শিশুটিকে গত ১৩ জুলাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরদিন তার চান্দিপুরা ভাইরাস শনাক্ত হয় এবং তাকে পেডিয়াট্রিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। ছয় দিন চিকিৎসার পর ১৯ জুলাই শিশুটি মারা যায়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রফুল পানসেরিয়া বলেন, রাজ্যে এ পর্যন্ত মোট ৬৩টি সন্দেহভাজন চান্দিপুরা ভাইরাসের কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন রোগীর পজিটিভ এসেছে, যার মধ্যে ৯টি কেস গুজরাটের এবং ৩টি রাজস্থানের। এ পর্যন্ত আটজন রোগী মারা গেছেন।

গুজরাট সরকার সোমবার ১২ জন রোগীর চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোট ৬৩টি সন্দেহভাজন কেস থেকে সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৫৫টির ফলাফল পাওয়া গেছে, আর বাকি আটটি নমুনার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন জেলায় চান্দিপুরা ভাইরাসের ভৌগোলিক বিস্তার, ছড়িয়ে পড়ার কারণ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে সোমবার পানসেরিয়ার সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পজিটিভ কেসগুলোর মধ্যে পঞ্চমহল ও খেড়া জেলা থেকে দুটি করে এবং সবরকাণ্ঠা, মেহসানা, ভারুচ, ভাবনগর ও আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকা থেকে একটি করে কেস রিপোর্ট করা হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় কেস পাওয়া গেছে সেখানে নিবিড় নজরদারি বজায় রাখতে হবে। ভাইরাসের উৎসের বিস্তার বুঝতে রোগীদের যাতায়াতের ইতিহাস ও কেস হিস্ট্রি বিস্তারিত তদন্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কাঁচা ও পাকা ঘরসহ হাজার হাজার বাড়িতে বিস্তৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ভাইরাস বহনকারী বালুমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে কাঁচা বাড়ি এবং গবাদি পশুর ঘরের চারপাশে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

ড. জোশী জানান, চান্দিপুরা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রদাহ হতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া, সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়া।

মন্ত্রী জানান, এই ভাইরাসটি সাধারণত বর্ষাকালে এবং সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বেশি সক্রিয় থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব জেলা সদরের সিভিল হাসপাতাল ও সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভেন্টিলেটর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, এই ভাইরাস প্রধানত ছোট শিশুদের প্রভাবিত করে। শিশুর হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া বা সংজ্ঞাহীনতার লক্ষণ দেখা দিলে অভিভাবকদের অবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকেন সেই আহ্বান জানিয়ে পানসেরিয়া বলেন, প্রশাসন পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে