ভারতে বিতর্কিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের মধ্যে তাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার তিনি মন্তব্য করেন যে, শিক্ষামন্ত্রী হয়তো কীভাবে পদত্যাগপত্র লিখতে হয় তা জানেনই না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, হয়তো শিক্ষামন্ত্রী জানেন না কীভাবে পদত্যাগপত্র লিখতে হয়। আরএসএস তো কেবল ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনপত্র লেখাই শেখায়।
সংসদ অভিমুখে ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রা রুখতে পুলিশের বলপ্রয়োগের পরদিন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার মধ্যে মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য এলো।
ভারী বৃষ্টি, কড়া নিরাপত্তা এবং সোমবারের পুলিশের অভিযানের পরও মঙ্গলবার স্বেচ্ছাসেবকরা আন্দোলনস্থলে অবস্থান করেন। পুলিশ সেখান থেকে তাঁবু ও অন্যান্য অস্থায়ী কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা মঞ্চ পরিষ্কার করার কাজ করেন। পুলিশের অভিযানের পর মঞ্চের চাদরটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়।
এদিকে পুলিশের অভিযানের সময় আহত সমর্থকদের কাছে, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমাদের সব সমর্থক, বিশেষ করে যে মেয়েদের পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তারা নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমাদের প্রস্তুতি আরও ভালো হতে পারত।
অভিজিৎ দীপকে আরও অভিযোগ করেন যে, একজন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে সরকার বলপ্রয়োগ করতেও প্রস্তুত এবং তিনি দাবি করেন যে ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য শিক্ষামন্ত্রী দায়ী। আহত আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকের অনশন ২৪তম দিনে গড়িয়েছে। তিনি পুনরায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কথিত অনিয়ম নিয়ে জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। সোমবার আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। এই সহিংসতার জন্য আন্দোলনকারী ও পুলিশ একে অপরকে দোষারোপ করছে। গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তর করে এবং তিনি হাসপাতাল থেকেই তার অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া