তুলতুলে অমলেট, পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট স্যান্ডউইচ থেকে শুরু করে প্রোটিনসমৃদ্ধ কারি কিংবা বেক করা খাবার; রান্নার দুনিয়ায় অন্যতম বহুমুখী উপকরণ হলো ডিম। প্রতিদিন কোটি কোটি ডিম পৌঁছে যায় ভারতের বাসা-বাড়ি, রেস্তোরাঁ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে। এই বিশাল জোগানের একটি বড় অংশই আসে একটি নির্দিষ্ট শহর থেকে, যা কয়েক দশক ধরে পোলট্রি শিল্পে তৈরি করেছে আলাদা এক পরিচিতি। সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক, হ্যাচারি এবং ফিড মিলের কারণে তামিলনাড়ুর নামাক্কাল শহরটি অর্জন করেছে এক অনন্য উপাধি, ‘ভারতের ডিমের রাজধানী’।
নামাক্কাল প্রতিদিন লাখ লাখ ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে কেবল ঘরোয়া বাজারেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও রফতানিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সুসংগঠিত খামারব্যবস্থা, আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি এবং উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের ওপর ভর করেই নামাক্কালের এই উত্থান।
বৃহৎ আকারের লেয়ার ফার্মিং, আধুনিক পোলট্রি ব্যবস্থা, দক্ষ পরিবহন ও লজিস্টিকস, ফিড মিলের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং সুপ্রতিষ্ঠিত রপ্তানি অবকাঠামো নামাক্কালকে ভারতের পোলট্রি মানচিত্রে শীর্ষে তুলে এনেছে।
এ অঞ্চলে পোলট্রি কেবল একটি শিল্প নয়, এটি হাজার হাজার মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি। ফার্ম ছাড়াও ফিড প্রস্তুত, প্যাকেজিং, পরিবহন ও ভেটেরিনারি সেবার মতো খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এই খাত।
অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলোও ভারতে ডিম উৎপাদনে এগিয়ে রয়েছে। তবে উন্নত অবকাঠামো, বহু দশকের অভিজ্ঞতা এবং ডিম উৎপাদন কেন্দ্রিক সুনির্দিষ্ট ইকোসিস্টেমের কারণে নামাক্কাল আজও অনন্য এক নাম।
সূত্র: এনডিটিভি