যে গ্রামকে বলা হয় ভারতের ‘বর্ষার রাজধানী’

বর্ষাকালে ভারতের প্রকৃতি ধারণ করে এক অপরূপ রূপ। পাহাড়গুলো সতেজ সবুজ হয়ে ওঠে, ঝরনাগুলোতে নেমে আসে তীব্র ধারা, আর নদীগুলো জলে কানায় কানায় ভরে ওঠে। এ সময় দেশটির অনেক অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হলেও উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলস জেলার একটি ছোট গ্রাম তার অসাধারণ আবহাওয়ার জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ে। খাসি পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এই গ্রামটির নাম মাসিনরাম, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের স্থান হিসেবে এবং ভারতের ‘বর্ষার রাজধানী’ বলা হয়ে থাকে।

মাসিনরামের এই অনন্য আবহাওয়ার পেছনে কাজ করে এর ভৌগোলিক অবস্থান। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু সরাসরি খাসি পাহাড়ে বাধা পেয়ে দ্রুত ওপরে উঠে যায়, যার ফলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে। মাসিনরাম থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চেরাপুঞ্জি, যা একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান হিসেবে স্বীকৃত ছিল এবং একক মাস ও একক বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড এখনও তার দখলেই রয়েছে। তবে বর্তমানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের হিসাবে মাসিনরাম শীর্ষে অবস্থান করছে।

শুধু বৃষ্টির রেকর্ডই নয়, ঘুরে দেখার জন্য মাসিনরাম ও এর আশপাশের অঞ্চলে রয়েছে চমৎকার সব প্রাকৃতিক আকর্ষণ। সেখানে স্বাভাবিকভাবে গঠিত স্ট্যালাগমাইটের জন্য বিখ্যাত মাজিমবুইন গুহা দেখার সুযোগ মেলে। পাশেই সোহরা অঞ্চলের বিখ্যাত নোওকালিকাই ঝরনা, চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার্স ঝরনা এবং খাসি পাহাড়ের বিখ্যাত প্রাকৃতিক শিকড়ের সাঁকো পর্যটকদের বিমোহিত করে।

মাসিনরামের আসল রূপ ও বৃষ্টি উপভোগ করতে চাইলে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘুরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর যারা বৃষ্টি এড়িয়ে মনোরম আবহাওয়া ও পরিষ্কার আকাশে পাহাড় দেখতে চান, তাদের জন্য অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টি সবচেয়ে উপযোগী। আকাশপথে শিলং বা গুয়াহাটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে আসা যায়। সড়কপথে শিলং থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরত্বের মাসিনরামে যাওয়া যায় ট্যাক্সি বা বাসে করে। যারা বৃষ্টি ভালোবাসেন, তাদের কাছে মেঘালয়ের এই বর্ষার রাজধানী এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি