এবার তেলেঙ্গানার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলো খোদ বিজেপি

শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ প্রকল্পের আওতায় জমে থাকা ১২ হাজার কোটি রুপির বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তেলেঙ্গানার কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী এ রেভান্থ রেড্ডিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রবিবার (২৬ জুলাই) তেলেঙ্গানা রাজ্য বিজেপির সভাপতি এন রামচান্দর রাও এই দাবি জানান।

২৫ জুলাই সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডির মোমবাতি মিছিলের তীব্র সমালোচনা করেন রামচান্দর রাও। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের এই বকেয়া না মেটানোর কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার যদি এই বকেয়া শোধ করতে না পারে, তবে তাদের জনরোষের মুখে পড়তে হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতা বলেন, পদত্যাগের মাধ্যমে বিজেপি তাদের সততা প্রমাণ করেছে। এখন বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া এবং বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডির নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করা উচিত।

সাংবাদিকদের রামচান্দর রাও বলেন, ১২ হাজার কোটি রুপি বকেয়া থাকার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মূল সনদ আটকে রাখছে। আপনি সেসব নিয়ে কথা বলছেন না, অথচ মোমবাতি মিছিল করছেন।

দিল্লিতে নিট প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের পেছনে ‘বিদেশি শক্তির’ হাত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন এই বিজেপি নেতা।

কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে বীরুলা সৈনিক স্মারকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রামচান্দর রাও বলেন, দেশকে শক্তিশালী ও নিরাপদ করতে যুবসমাজের মধ্যে দেশপ্রেমের প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। কারগিল বিজয় দিবস তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং তা দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে।

বিজেপি সভাপতির বক্তব্যের জবাবে তেলেঙ্গানার পরিবহনমন্ত্রী পোন্নাম প্রভাকর বলেন, ফি মওকুফের বকেয়া একদিনে তৈরি হয়নি। এটি পূর্ববর্তী ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) সরকারের আমল থেকে চলে আসা একটি বিশাল সমস্যা।

পূর্ববর্তী বিআরএস সরকার যখন শিক্ষার্থীদের ওপর বকেয়ার বোঝা চাপাচ্ছিল তখন বিজেপি কেন নীরব ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই কংগ্রেস মন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী বলেন, ফি মওকুফের নামে যারা রাজনীতি করছে, তাদের স্পষ্ট করা উচিত তাদের শাসিত কোন কোন রাজ্যে এই প্রকল্প চালু আছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যদি সত্যিই সততা থাকে, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত পুরো দেশে ফি মওকুফ প্রকল্প চালু করা। অন্তত রাজ্যগুলোর আর্থিক বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, যে বিজেপি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে, শিক্ষার্থীদের কোনও সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ন্যূনতম নৈতিক অধিকার তাদের নেই।