টাটা কনসালটেন্সির চাকরি ফিরিয়ে চালের ব্যবসা, আয় বছরে ২৫ লাখ

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে চালের ব্যবসা শুরু করেছিলেন এক ভারতীয় যুবক। আর তাতেই মিলেছে অভাবনীয় সাফল্য, বর্তমানে চালের ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ২৫ লাখ রুপি আয় করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অংকিত পান্ডে নামের এক ব্যবহারকারীর পোস্টের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে গল্পটি।

পান্ডে জানান, টিসিএস-এ ক্যাস্পাস প্লেসমেন্টের সুযোগ পাওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করায় অনেকে তার বন্ধুকে বোকা ভেবেছিলেন এবং করপোরেট ক্যারিয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু কারও কথায় কান না দিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ও রাজ্য থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা শুরু করেন ওই তরুণ।

পান্ডে তার বন্ধুর ব্যবসার ধরন ব্যাখ্যা করে জানান, তিনি কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৩৫ রুপি কেজি দরে চাল কেনেন। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করতে প্রতি কেজিতে ৩ রুপি এবং পরিবহনে ২ রুপি খরচ হয়। অর্থাৎ, প্রতি কেজির মোট উৎপাদন খরচ পড়ে ৪০ রুপি। এই প্যাকেটজাত চাল তিনি বিভিন্ন খুচরা দোকানে ৫০ রুপি কেজি দরে বিক্রি করেন। আর দোকানিরা তা গ্রাহকের কাছে ৫৫ থেকে ৫৭ রুপি কেজিতে বিক্রি করেন। ফলে প্রতি কেজি চালেই ওই তরুণের ১০ রুপি লাভ থাকে। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কুইন্টাল (২০ হাজার কেজি) চাল প্রায় ২০০টি খুচরা দোকানে সরবরাহ করছেন। এই হিসাব থেকেই তার বার্ষিক আয় ২৫ লাখ রুপি দাঁড়িয়েছে।

তথ্যগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে উদ্যোক্তা হওয়া ও ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, জীবন সাধারণ নিয়মে চলে: যত বড় ঝুঁকি, তত বড় লাভ।

অপর একজন লিখেছেন, ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, নিজের সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে পারলে তা যে কোনও করপোরেট বেতনকে টেক্কা দেবে।

তবে সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। অপর এক নেটিজেন মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি দেখতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। নিজের ব্যবসা মানে অনেক বেশি দায়িত্ব। টিসিএস থেকে বেতন নেওয়ার চেয়ে ব্যবসা থেকে লাভ তোলা অনেক কঠিন।

সূত্র: এনডিটিভি