দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার মাধ্যমে মানবপাচার, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটানোর দায়ে সাত ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইইউর নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে কম্বোডিয়াভিত্তিক বিলিয়ন ডলারের গোষ্ঠী প্রিন্স হোল্ডিং গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান চেন ঝি। প্রতিষ্ঠানটি কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রতারণাকেন্দ্র তৈরি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নানা ধরনের অনলাইন জালিয়াতি চালাত। এসব কেন্দ্রে বহু দেশের মানুষকে মিথ্যা আশ্বাসে আটকে রেখে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজ করানো হতো এবং তাদের ওপর নির্যাতন, অপহরণ ও অবৈধ আটক রাখার অভিযোগ রয়েছে।
একই ধরনের অপরাধে কম্বোডিয়ার জিন বে গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান জু ঝোংবিয়াও-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের কারেন রাজ্যের মিরাবতী সীমান্তে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ডেমোক্র্যাটিক কারেন বেনেভোলেন্ট আর্মি’র (ডিকেবিএ) ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি তাদের সুরক্ষায় স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনা করতে দিত এবং আটকে থাকা পাচার হওয়া মানুষদের ওপর সহিংসতায় এদের সেনারা অংশ নিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং ইইউর নাগরিক বা কোম্পানিগুলো তাদের কোনও তহবিল দিতে পারবে না। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইইউ ভূখণ্ডে প্রবেশ ও ট্রানজিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস স্যাংশনস রেজিম-এর আওতায় ইইউ এই ব্যবস্থা নিয়েছে। ইইউ নিয়মিতভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কেন্দ্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবরেও অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ এমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ইইউ।