পদত্যাগ করে ইনফ্লুয়েন্সার হোন: মোদিকে খোঁচা ‘ককরোচ’ দিপকের

প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোঁচা দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, মোদির উচিত পদ ছেড়ে দিয়ে ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়া। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভিডিওর কঠোর সমালোচনা করে বুধবার তিনি এই মন্তব্য করেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর মহারাষ্ট্রে নিজ শহরে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নরেন্দ্র মোদির ভিডিও পোস্টের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদির এখন একজন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি বেশ ভালোই কাজ করছেন। দেশ পরিচালনার কাজ অন্য কারও হাতে ছেড়ে দিয়ে তার উচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটি ফাঁকা করে দেওয়া।

অভিজিৎ অভিযোগ করেন, আন্দোলন স্থগিত হলেও রাজ্য সরকারগুলো অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে হয়রানি করছে। তিনি হঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি শিক্ষার্থীদের ওপর এই হয়রানি বন্ধ না করে, তবে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরা এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে জনক্ষোভ প্রশমিত হয়নি উল্লেখ করে সিজেপি প্রধান বলেন, ক্ষোভটি ছিল পুরো সরকারের বিরুদ্ধে। আন্দোলন শেষ হওয়াকে লড়াইয়ের সমাপ্তি মনে না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনও সন্ত্রাসী নয়, তারা দেশের ভবিষ্যৎ। আজ ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, সরকার সোজা পথে না চললে আগামীকাল আমরা পুরো সরকারকেই বদলে দেব।

তিনি জানান, প্রয়োজন হলে পরবর্তী আন্দোলন আরও বড় পরিসরে হবে।

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছররা গুলি ব্যবহারের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন অভিজিৎ। এর পেছনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা যে-ই থাকুন না কেন, নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি সমর্থকদের উদযাপনকে কেন্দ্র করে ওঠা সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ায় একটানা ৩৬ দিন ধরণা দেওয়ার পর তারা এই সাফল্য পেয়েছে, যা উৎযাপন করা স্বাভাবিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পর সংসদে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংবর্ধনা দিতে কি বিজেপির কোনও লজ্জা লাগেনি?

প্রশ্নফাঁস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেন, ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণার পর প্রথম শুনানিই সিবিআই কৌঁসুলির অনুপস্থিতির কারণে স্থগিত হয়ে গেছে।

এ ছাড়া, বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত সিজেপির আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে অভিজিৎ তাকে একজন ‘পার্ট-টাইম রাজনীতিবিদ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য না করায় তার প্রতিক্রিয়ার যোগ্য নন বলে মন্তব্য করেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে