ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা জোরদারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক-এ চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রেল লিংক।
এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীবাস্তব বলেন, এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ করিডোরটির সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তিনমাই ঘাট ও বাগডোগরার মধ্যে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ডাবল-লাইন ভূগর্ভস্থ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ।
তিনি জানান, আগে এই সেকশনের জন্য একটি তৃতীয় লাইনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে এবার একই সঙ্গে চতুর্থ লাইনেরও অনুমোদন মিলেছে। শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক হলো ভারতের উত্তরবঙ্গের একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার চওড়া এবং ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটিই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোকে দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।
শ্রীবাস্তব আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পুরো রেল করিডোরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এলাকাটি আরও সুসংগঠিতভাবে বিকশিত হবে। বর্তমানে বারসোই সেকশনে লাইন দ্বিগুণ করার কাজ চলছে এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতে কাটিহার বিভাগজুড়ে অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
রেলওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে এনএফআরের এই কর্মকর্তা জানান, গত বছর বিভিন্ন রুটে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রায় ২৫০টি নতুন স্টপেজ যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পুনর্গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, যা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে।
তিনি আরও বলেন, শিগগিরই যোগবানী, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে নতুন লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সীমান্ত ও দুর্গম এলাকার যাত্রীদের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি হবে। এ ছাড়া এনএফআর নেটওয়ার্কের শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল আরও সম্প্রসারণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গুয়াহাটি ছাড়িয়ে তিনসুকিয়া ও আগরতলা পর্যন্ত দুই মুখেই বন্দে ভারত ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা আরও দ্রুত ও আরামদায়ক রেল ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে