মুম্বাইয়ের ব্যস্ত ট্রেন স্টেশনের ভেতরের এক দৃশ্য, ঢিলা জিন্স ও সাদা এমব্রয়ডারি জ্যাকেট পরে হাঁটছেন ২৫ বছরের এক তরুণী, আর পেছনে শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ পরা আরও চার নারী একই তালে হেঁটে তৈরি করেছেন সাবলীল ফ্যাশন শোর আবহ। কোনও চিত্রনাট্য ছাড়া ইনস্টাগ্রামের এ রিল দিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন মুম্বাইয়ের মেয়ে দিয়া জুকানি, যাকে নেটিজেনরা নাম দিয়েছেন ‘ভারতের সবচেয়ে কুল গার্ল’। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিচয় তৈরি হওয়ার পর তা দিয়ে নিজের পোশাক ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন দিয়া। মুম্বাইয়ের রাস্তায় হেঁটে ছাগল চরানো, স্কেটবোর্ডে ঘুরতে ঘুরতে ডাব খাওয়া কিংবা চা-ওয়ালা ও স্থানীয়দের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, এসব নিত্যদিনের টুকরো ছবি দ্রুতগতি ও দারুণ গানে ফ্রেমবন্দি করেন তিনি। এসব ভিডিও ধারণে সহায়তা করেন তার বাবা। ঐতিহ্যের আরী ও জারদোজি সূচিকর্মকে আধুনিক ডেনিম, হুডি ও জিন্সের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি শুরু করেছেন নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘দিয়াদিয়া’।
বান্দ্রার স্থানীয় মানুষদের মনোভাব তুলে ধরে দিয়া বলেন, এটি বলিউডের শহর, এখানে সবার নিজস্ব ভাব ও স্টাইল আছে। বোম্বাইয়ের মূল চেতনা হলো সবাই সবাইকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। আপনি কাউকে দেখে হাসলে সে-ও হেসে উত্তর দেবে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে দিয়ার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। দুই মাধ্যম মিলিয়ে এখন তার অনুসারী ৯ লাখেরও বেশি। গত জানুয়ারিতে নিজের ব্র্যান্ড চালুর পর মাত্র দুই দিনে তিন হাজারের বেশি পোশাক বিক্রি হয়। কেবল মুম্বাই নয়, বৈরুত, লিমা কিংবা লাগোসের তরুণীরাও ‘কুল গার্ল’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দিয়াকে অনুসরণ শুরু করেন। পশ্চিমা কেন্দ্রিক ফ্যাশন ধারার বাইরে এশিয়ান বা গ্লোবাল সাউথ সংস্কৃতি তুলে ধরতে পেরে দিয়া বলেন, তিনি বেশ গর্বিত।
ছোটবেলা থেকেই পোশাক নিয়ে দারুণ শৌখিন ছিলেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী দম্পতির সন্তান দিয়া। স্কুলে স্কার্ট গুঁটিয়ে হুডি পরার জন্য শিক্ষকরা বলতেন, ‘এটাকে কি ফ্যাশন শো মনে করেছ?’ আর দিয়া উত্তর দিতেন, ‘হ্যাঁ, আসলেই তাই’। নিউ জিল্যান্ডে পড়াশোনা শেষ করে লন্ডনে গিয়ে কেনজো-র খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি পান তিনি। কিন্তু দিয়া ভাবতেন, ‘আমি এই গতানুগতিক কাজের চেয়ে অনেক ভালো কিছুর যোগ্য।’ চাকরি ছেড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুম্বাই ফিরে আসেন তিনি।
পোশাকের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দিয়া বান্দ্রার স্থানীয় দর্জিদের নিয়ে নিজস্ব টিম গড়ে তোলেন। মাস্টারজি রুকসার শেখ ও মুন্না শেখকে সঙ্গে নিয়ে স্টুডিওতেই নিজ হাতে তৈরি করছেন সব আধুনিক ডিজাইন। গত জুনে প্যারিস ফ্যাশন উইকে গিয়ে সেখানকার আভিজাত্য বা সুযোগের অভাব দেখে অসন্তুষ্ট দিয়া সিদ্ধান্ত নেন, রাজকীয় ইনডোর ছাড়িয়ে রাস্তার সাধারণ মানুষের মাঝেই করবেন নিজের পরবর্তী সব রানওয়ে শো। দিয়া গর্ব করে বলেন, ‘আমাদের চমৎকার প্রতিভা আছে, সুতরাং ফ্যাশন উইকে আপনারা যা দেখেন, এখানে তার চেয়েও বেশি কিছু দেখতে পাবেন।’
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস