ডাল, তরকারি কিংবা আচার, যে পদই হোক না কেন, ভারতীয় রান্নাঘরে নুন বা লবণ ছাড়া যেন স্বাদ জমে না। তবে দৈনন্দিন খাবারের অতিপরিচিত এই উপাদানটি ঠিক কোথা থেকে আসে, তা নিয়ে খুব কম মানুষই ভাবেন। ভারতের রান্নাঘরে ব্যবহৃত লবণের সিংহভাগই আসে দেশের একটি বিশেষ রাজ্য থেকে। উপযোগী জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতির গুণে রাজ্যটি এখন ভারতের ‘সল্ট ক্যাপিটাল’ বা লবণের রাজধানী নামে পরিচিত।
ভারতের সবচেয়ে বড় লবণ উৎপাদনকারী রাজ্য হলো গুজরাট। দেশটির সল্ট কমিশনারের কার্যালয়-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট লবণ উৎপাদনের ৮৭.৪ শতাংশই আসে গুজরাট থেকে। আর গুজরাট, তামিলনাড়ু ও রাজস্থান এই তিন রাজ্য মিলেই দেশের ৯৮.৮ শতাংশ লবণ উৎপাদন করে। দীর্ঘ উপকূলরেখা, শুষ্ক আবহাওয়া এবং বিস্তীর্ণ লবণাঞ্চল গুজরাটকে এই উৎপাদনে প্রাকৃতিক সুবিধা এনে দিয়েছে।
লবণ উৎপাদনের বড় অংশই আসে গুজরাটের উপকূলীয় এলাকা এবং কচ্ছের লবণ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো থেকে। এর মধ্যে কচ্ছের রণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর এই বিস্তীর্ণ এলাকা সাদা লবণের স্ফটিকের এক অপরূপ চাদরে ঢেকে যায়।
লবণ কমিশনারের তালিকা অনুযায়ী জামনগর, মিঠাপুর, ভাবনগর, রাজুলা, দহেজ, গান্ধিধাম, কাণ্ডলা, মালিয়া এবং কচ্ছের বেশ কিছু এলাকা মূল উৎপাদন কেন্দ্র। সমুদ্রের পানি ও মাটির নিচের নোনা পানি দুই ব্যবহার করেই এখানে লবণ তৈরি হয়।
লবণ তৈরির প্রক্রিয়াটি দেখতে সহজ মনে হলেও এতে বেশ শ্রম দিতে হয়। উপকূলীয় এলাকার অগভীর জলাধারে সমুদ্রের পানি আটকে রোদে বাষ্পীভূত হতে দেওয়া হয়। পানি শুকিয়ে গেলেই নিচে জমে থাকা লবণের স্ফটিক সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সূর্যালোক, কম বৃষ্টিপাত ও উপযোগী মাটি এই বাষ্পীভবন পদ্ধতির মূল শর্ত।
সল্ট কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য মতে, ২০২২-২৩ সালে ভারতে লবণ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩৯.১১ মিলিয়ন টনে। ভারত এখন নিজের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত লবণ বিদেশে রফতানিও করে।
কচ্ছের সাদা লবণের প্রান্তর কেবল পর্যটকই টানে না, এটি ওই অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। রণ উৎসব-এর সময় পর্যটকরা বাজরা রোতলো, কঢ়ি, খিচুড়ি, ছাস এবং দাবেলির মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।
সূত্র: এনডিটিভি