একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আসল মালিক নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার পুলিশ। গয়া পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) বিকাশ বৈভব মহিষটির ডিএনএ পরীক্ষার এই নির্দেশ দেন। এছাড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গয়া (গ্রামীণ) এসপি দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সেউতার গ্রামের সুরজ যাদব ও নওরঙ্গা গ্রামের প্রকাশ মাঝির মধ্যে। প্রথমে সুরজ যাদব অত্রি থানায় মহিষ হারিয়ে যাওয়ার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তিনি মহিষটির খোঁজ পেয়ে সেটি প্রকাশ মাঝির বাড়িতে দেখতে পান।
আইজি বিকাশ বৈভব টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, মহিষটির মা বর্তমানে অন্য এক গ্রামবাসীর বাড়িতে জীবিত রয়েছে। তাই নিখোঁজ মহিষটির ডিএনএ তার মায়ের ডিএনএ-এর সঙ্গে মিলিয়ে আসল মালিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকাশ মাঝির বাড়ি থেকে মহিষটি পাওয়ার পর সুরজ জোরপূর্বক তা নেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা অভিযোগ জানান প্রকাশ। অত্রি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অজয় কুমার মহিষসহ সুরজকে থানায় তলব করেন এবং মহিষটিকে দুই দিন থানায় রাখা হয়। এর মধ্যেই সুরজের সমর্থকেরা থানার সামনে জড়ো হয়ে মহিষটি হস্তান্তরের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে প্রকাশ মাঝি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনে সুরজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে এই বিতর্কে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর নেতা ও সাবেক বিধায়ক অজয় কুমার যাদব ওরফে রঞ্জিত যাদব আইজির কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান। আরজেডি নেতার মতে, সুরজের বিরুদ্ধে মামলাটি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় এবং স্থানীয় পুলিশের ভূমিকাও তদন্ত করা দরকার।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের শরিক হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেক্যুলার)-এর জাতীয় মুখপাত্র শ্যাম সুন্দর মাঝি জানান, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং সবারই পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

একটি আমগাছ, পাহাড়ি ঢলে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন এক নেপালি






