চলতি বছরের শুরুর দিকে পশ্চিম এশিয়ায় বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মুখোমুখি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশেখে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ান দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর তারা শেষবার মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ চালানোর পর থেকে মোদি ও পেজেশকিয়ান একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। সেসব ফোনালাপে মূলত উত্তেজনা হ্রাস, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছিল।
সিরিয়া, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানসহ ১০ সদস্যের এই জোটের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে আয়োজক দেশ কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সদের জাপারভের আমন্ত্রণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও অংশ নিচ্ছেন।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করা হবে, যার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগ অন্যতম। সংঘাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং পণ্য ও জ্বালানির অবাধ পরিবহনের পাশাপাশি অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, এই সংকট মোকাবিলায় পেজেশকিয়ান এসসিও ও ব্রিকসের মতো জোটগুলোর আরও বড় ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, আগামী কিছুদিন পর ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়া দিল্লি সফরে যাবেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: উইয়ন নিউজ