কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের হারমনি প্রাসাদে সোমবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার পরিদর্শনের পর দুই রাষ্ট্রপ্রধান এ বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং চীনের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কিরগিজস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌথ নেতৃত্বে চীন-কিরগিজস্তান সম্পর্ক দ্রুত গতিতে উন্নীত হয়েছে।
শি জিনপিং আরও জানান, চলতি বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং দেশটির পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার উদ্বোধনী বছর। তিনি দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধি, চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি, মাদক পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ চীনের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাতে পেরে সম্মান প্রকাশ করেন এবং শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব ও চীনের শাসনব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ‘এক-চীন’ নীতি মেনে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাপারভ জানান, কিরগিজস্তান বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বহুপাক্ষিক জোটে চীনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি, সিচাং জিরং-এ ভূমিধসের ঘটনায় চীনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে দুই নেতা নতুন যুগের সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের উচ্চমানের উন্নয়ন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা এবং চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সফরকালে বিনিয়োগ, পরিবহন, শুল্ক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষাসহ ২০টির বেশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নথি স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়। পরে প্রেসিডেন্ট জাপারভ চাইনিজ প্রেসিডেন্টের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। এতে অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: সিএমজি