নেপাল-তিব্বত সীমান্তে গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যা ও বিপর্যয় পরিদর্শনের জন্য বার্তা সংস্থা পিটিআইসহ নির্বাচিত একদল বিদেশি সাংবাদিকের জন্য তিব্বতের জিরোং কাউন্টি উন্মুক্ত করেছে চীন। তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট বন্যায় নেপাল সীমান্তে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মারা গেছেন এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বত অংশে ৩১ জনের মৃত্যু এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি (৪৯ জন ভারতীয়)।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের উচ্চভূমির হিমবাহ ও পাথর ধসে সৃষ্ট এই কাদা-পানির তোড় ভোটকোশী নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সীমান্তসংক্রান্ত একটি ইমিগ্রেশন ভবন নিমেষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ২৮ আগস্ট বেইজিংয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চীন ও নেপালের বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেপালের একটি উচ্চ-উচ্চতার হিমবাহ ধসের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছিল।
চীনের অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের তিব্বতি মালভূমি গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে কাদাস্রোত ২২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জিরোং বন্দরে পৌঁছেছিল। চীনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টারের উপপরিচালক গাও রোং সতর্ক করে জানান, তিব্বত মালভূমির হিমবাহগুলোর স্থায়িত্ব কমে আসছে। তিনি বলেন, গত ৬০ বছরে তিব্বত মালভূমির প্রায় ২৪ শতাংশ হিমবাহ সংকুচিত হয়েছে এবং ৭ হাজার ছোট হিমবাহ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তিব্বত মালভূমিজুড়ে হিমবাহের গঠনগত স্থায়িত্ব আরও হ্রাস পাবে এবং এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
চীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন ও নেপালে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো শুরু করলেও, বিশেষজ্ঞরা তিব্বত থেকে উৎপন্ন হিমবাহজনিত উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সমন্বিত পূর্ব সতর্কতার ওপর জোর দিচ্ছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে