‘ডার্ক ম্যাটার’ কণা অনুসন্ধানে ট্র্যাকার আবিষ্কার 

পৃথিবীর নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্রের চেয়েও অন্তত একশ’ কোটি (১ বিলিয়ন) গুণ বেশি দুর্বল ও সূক্ষ্ম চৌম্বকীয় সংকেত পরিমাপের উপযোগী সেন্সর ডিভাইস বা ট্র্যাকার আবিষ্কার করেছেন চীন ও জার্মানির একদল বিজ্ঞানী। 

তাদের তৈরি নতুন এই টেবিল-টপ চৌম্বকীয় সেন্সরটি সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম।  লেভিটেটেড ম্যাগনেটোমিটার (লেমা মা) নামের উদ্ভাবনী এই যন্ত্রটি মূলত শূন্যে ভাসমান এক কম্পাস হিসেবে কাজ করে, যার কাঁটা ঘর্ষণ ছাড়াই বাতাসে ভাসতে পারে। 

কম্পাসের কাঁটার অতিসূক্ষ্ম বিচ্যুতিগুলো নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ফেমটোটেসলা (এক টেসলার এক কোটির ভাগের এক ভাগ) স্তরের গভীরতম চৌম্বকীয় তথ্য পাচ্ছেন। এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিটির মাধ্যমে একদিকে যেমন মহাবিশ্বের বহুল কাঙ্ক্ষিত ও রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য বস্তু) কণার অনুসন্ধান সহজ হবে, অন্যদিকে মানুষের মস্তিষ্কের সূক্ষ্মতম সংকেত পর্যবেক্ষণ করাও সম্ভব হবে। 

শূন্যে ভাসমান চুম্বকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিস্ময়কর উদ্ভাবনের বিষয়টি আগস্ট মাসে বিখ্যাত গবেষণা সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে। 

গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক ও পিকিং ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান স্কুলের সহকারী অধ্যাপক জি উই বলেন, কক্ষ তাপমাত্রায় কার্যকর হওয়া, অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকৃতির যন্ত্রাংশ এবং উচ্চ সংবেদনশীলতার এই অনন্য সংমিশ্রণের কারণে মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় লেমা মা অত্যন্ত আশা জাগিয়েছে। 

হাসপাতালের একটি এমআরআই মেশিনের ১.৫ টেসলা শক্তিমত্তা থেকে শুরু করে মানুষের মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি হওয়া অতিসূক্ষ্ম ফেমটোটেসলা মাত্রা পর্যন্ত চৌম্বকক্ষেত্র আমাদের চারপাশেই বিদ্যমান। তবে অতীতে এতটা সূক্ষ্ম চৌম্বকক্ষেত্র নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে বিশ্বের প্রথম আল্ট্রাপ্রিসাইজ (অতি-নিখুঁত) ম্যাগনেটোমিটার উদ্ভাবন করলেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: উইয়ন নিউজ