দুর্গাপূজার মণ্ডপের কাছে আমিষ খাবার বিক্রি ও গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। হাওড়ার লিলুয়ায় তিন দিনের হনুমান কাইথা অনুষ্ঠানে তিনি বাঙালি হিন্দুদের এই নিদান দেন। এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) পূজামণ্ডপের পবিত্রতা রক্ষায় আমিষ খাবার দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। শাস্ত্রীর এই সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হাওড়ায় অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচির শেষ দিনে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেন, আমি বাংলার হিন্দুদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, নবরাত্রির সময় আপনারা প্রতিমা স্থাপন না করলেও মণ্ডপের কাছে যেন আমিষ খাবার বিক্রি না করেন।
এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং নিজেকে বাঙালি হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরাও।
বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি শাস্ত্রীকে ‘শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তার বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ হিসেবে অভিহিত করে জানান যে বিজেপি তা সমর্থন করে না। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা বাঙালিরা অষ্টমীতে লুচি আর নবমীতে খাসির মাংস খাই।
বিভিন্ন পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা শাস্ত্রীর এই বক্তব্যকে বাঙালি সংস্কৃতি ও শাক্ত ঐতিহ্যের ওপর বাইরের নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ত্রিপুরা সাবেক রাজ্যপাল তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায় এক্সে লিখেছেন, ধর্মীয় বৈচিত্র্যই হিন্দুধর্মের মূল কথা। নবরাত্রির সময়ও আমি মাছ-মাংস খাই এবং এর জন্য কারও কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।
একইভাবে সাংবাদিক সুমন সেনগুপ্ত টিপ্পনী কেটে প্রশ্ন তোলেন, তবে কি নবরাত্রি ইন, দুর্গাপূজা আউট? কলকাতাভিত্তিক সাংবাদিক অগ্নিভ নিয়োগী রামকৃষ্ণ মিশনের পূজায় মাছ-মাংসের ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, উৎসব পালনে তাদের কোনও ভণ্ড বাবার নির্দেশনার প্রয়োজন নেই।
ভিএইচপি পরবর্তীতে স্পষ্ট করে যে এটি কোনও খাদ্য তালিকা আরোপের চেষ্টা নয়। তবে সমালোচকদের মতে, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাঙালির নিজস্ব খাদ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সর্বজনীন মণ্ডপগুলোতে এই ধরনের নিরামিষ নীতি চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা বাঙালির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক সত্তার ওপর আঘাত হানার সামিল।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে