ভারতের ওড়িশার বালাসোর জেলার একটি বনে পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং উদ্ধারের পর আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণি পাচার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাণিগুলো ওই এলাকায় বাস করে না। ফলে কীভাবে তারা ওড়িশার জঙ্গলে পৌঁছালো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে ভোগরাই এলাকার বাদাপাই গ্রামের কাছের একটি বনে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম পাঁচটি ওরাংওটাং দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই হাজারো মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে প্রাণিগুলো উদ্ধার করেন।
বালাসোরের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) প্রতীক প্রকাশ ইন্দালকার জানিয়েছেন, পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং উদ্ধার করে বন দফতরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি সুস্থ রয়েছে এবং খাবার ও ওআরএস খাচ্ছে। পশুচিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা ও চিকিৎসা করছেন। বন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে প্রাণিগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ওরাংওটাংগুলোর সঠিক বয়স জানা যায়নি। তবে আকার ১ থেকে দেড় ফুট হওয়ায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)-এর লাল তালিকায় বিলুপ্তপ্রায় হিসাবে চিহ্নিত এই ওরাংটাংগুলো প্রধানত ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও এবং সুমাত্রার রেইনফরেস্টে বসবাস করে।
ডিএফও বালেশ্বরের প্রতীক প্রকাশ আরও বলেন, কোনও ভৌগোলিক করিডোর সংযোগ না থাকায় স্বাভাবিক স্থানান্তরের মাধ্যমে ওড়িশার জঙ্গলে তাদের আসার কোনও সুযোগ নেই। এটি নিশ্চিতভাবেই মানুষের মাধ্যমে সৃষ্ট বা পাচারের ঘটনা।
ওড়িশার বন ও পরিবেশমন্ত্রী গণেশ রাম সিং খুন্তিয়া জানান, ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র জড়িত থাকতে পারে সন্দেহ করায় কেন্দ্রীয় ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (ডব্লিউসিসিবি)-র সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ওরাংওটাংগুলোকে ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হবে এবং সেখানে কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস