মাত্র ৩০০ রুপির ওভেন দিয়ে শুরু, আজ ৭ হাজার ৪০০ কোটির সাম্রাজ্য

মাত্র ৩০০ রুপির একটি ছোট ওভেন দিয়ে শুরু। সেখান থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ৭ হাজার ৪০০ কোটি রুপির খাদ্যপণ্য কোম্পানি। এই গল্প ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানার রাজনি বেক্টরের।

১৯৭০-এর দশকে বাড়িতে আইসক্রিম, কেক, বিস্কুট ও বান তৈরি শুরু করেন রাজনি। শখের কাজ অল্প সময়েই পরিচিতজনদের নজর কাড়ে। তার তৈরি খাবার বন্ধু ও পরিচিতদের পছন্দ হওয়ায় রান্না ও বেকিংয়ের এই আগ্রহকে ব্যবসায় পরিণত করার আত্মবিশ্বাস পান তিনি।

দ্য বেটার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রাজনি পাঞ্জাব অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিতে বেকিংয়ের একটি কোর্সও করেন। তবে শুরুর ব্যবসায় খুব একটা সাফল্য আসেনি। উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে।

পরে স্বামী ধরমবীর বেক্টরের সহযোগিতায় ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন রাজনি। ১৯৭৮ সালে আইসক্রিম তৈরির একটি ইউনিট স্থাপনে স্বামী ২০ হাজার রুপি বিনিয়োগ করেন। এটিই বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে ওঠে।

১৯৮৫ সালে পাঞ্জাবে একটি রুটি তৈরির কারখানা স্থাপন করেন রাজনি। ইয়োরস্টোরির তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার পাউরুটি তৈরি হতো। পরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজারে।

পরবর্তীতে ব্যবসাটি ‘ক্রেমিকা’ ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, যা বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের জন্য পরিচিতি পায়। পাশাপাশি ‘ইংলিশ ওভেন’ নামে বেকারি ব্র্যান্ডও গড়ে ওঠে। 

১৯৯০-এর দশকে ভারতে প্রবেশের পর ম্যাকডোনাল্ডসকে বার্গারের বান সরবরাহের জন্য ক্রেমিকাকে বেছে নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ম্যাকডোনাল্ডসকে বান সরবরাহ শুরু করে। পরে কেএফসি ও বার্গার কিংসহ আরও বড় ফাস্টফুড চেইনেও বেকারি পণ্য ও বান সরবরাহ করতে শুরু করে তারা।

সময় গড়ানোর সঙ্গে ভোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক, দুই ধরনের ব্যবসাই সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ৬০টির বেশি দেশে বিক্রি হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘মিসেস বেক্টরস ফুড স্পেশালিটিজ’।

৩০০ রুপির একটি ওভেন থেকে শুরু করে আইসক্রিম ইউনিট, রুটি তৈরির কারখানা এবং শেষ পর্যন্ত বড় খাদ্যপণ্য কোম্পানি। রাজনি বেক্টরের এই যাত্রা কয়েক দশকে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ক্রেমিকা ও ইংলিশ ওভেনের পাশাপাশি বিশ্বের বড় কয়েকটি খাদ্য চেইনেও পণ্য সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: এনডিটিভি