হিমবাহ ধসের কারণ অনুসন্ধান করে যা জানালেন বিজ্ঞানীরা

২৬ আগস্ট। নেপালের পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্টি হয় দ্রুতগতির কাদাধস। এর প্রভাব পড়ে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও।

ঘটনার পর হিমবাহ ধসের কারণ অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা শুরু করেন চীনের বিজ্ঞানীরা। চীনের দ্বিতীয় ছিংহাই-সিচাং মালভূমি বৈজ্ঞানিক অভিযান দল এবং সিচাংয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ যৌথভাবে এই গবেষণা চালাচ্ছে।

চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য এবং বৈজ্ঞানিক অভিযানের দলনেতা ইয়াও থানতোং জানালেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি উঁচুতে থাকা মালভূমি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে পাঁচ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্র। এখন ছিংহাই-সিচাং মালভূমি বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে। পাঁচ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় কিছু গবেষণায় এই হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

চীনের গবেষকরা আরও জানালেন, দ্রুত উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলতে থাকে। গলিত পানি বরফের ফাটল দিয়ে নিচে গিয়ে হিমবাহের তলদেশে জমা হতে পারে। হিমবাহের নিচে যদি আলগা মাটি থাকে, তাহলে এর কাঠামো ধসে পড়তে পারে।

ছিংহাই-সিচাং মালভূমি ও এর আশপাশের অঞ্চল মেরু এলাকার বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিমবাহসমৃদ্ধ এলাকা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখানে রয়েছে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার হিমবাহ।

এসব হিমবাহের মোট আয়তন প্রায় ৯৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। মোট বরফের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ১০০ ঘনকিলোমিটার। তবে গত পাঁচ দশকে এই অঞ্চলের মোট বরফের পরিমাণ কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। একই সময়ে হিমবাহের আয়তন কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

ইয়াও থানতোং আরও বললেন, নেপালের লাংতাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢালে ধসে পড়া হিমবাহটি সামুদ্রিক ধরনের। এই ধরনের হিমবাহতে বরফ জমা ও গলার হার—দুটিই বেশি। এগুলো তুলনামূলক উষ্ণ, দ্রুত গতিশীল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে রয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি হিমবাহ।কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে এসব বরফভাণ্ডার।

হিমবাহ শুধু বরফের বিশাল স্তূপ নয়। এগুলো এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই হিমবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গবেষকরা মনে করেন, হিমবাহ ও এ থেকে তৈরি হওয়া হ্রদগুলোর নিয়মিত জরিপ, গতিশীল পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বরফধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সূত্র: সিএমজি