ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দুই যুদ্ধ, অস্থির বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন। বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি নিয়ে একমত হওয়ার মতো খুব বেশি বিষয় না থাকলেও, কূটনীতিকদের মধ্যে একটি বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। বিশ্ব গভীর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই খবর জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
মঙ্গলবার বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং মন্ত্রীরা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গভীর অনিশ্চয়তার সময়ে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘে সমবেত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং বিশ্বের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিবর্তিত হতে হবে।
গত নয় মাসে বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও থামার কোনও লক্ষণ নেই। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষই হামলা জোরদার করেছে এবং সংঘাত বন্ধে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগও অগ্রগতি পায়নি।
এর পাশাপাশি মে মাসে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব নতুন মহামারির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ায় প্রাণঘাতী ভূমিকম্প এবং নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও সামনে এনেছে।
বার্ষিক অধিবেশনের আগে সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন দেশের বর্তমান ও সাবেকমন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংকটের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নানা আক্রমণ, মধ্যস্থতার উদ্যোগের ভাঙন এবং জলবায়ু, শান্তি ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতিসংঘে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমে কিছু সংকট সমাধানের চেষ্টা করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তার ভাষায়, জাতিসংঘ একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।
অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা পার্শ্ববৈঠকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের মতো বিষয়েও সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা হবে।
স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোন কাজের বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব ও জোট বদলালেও জাতীয় স্বার্থই স্থায়ী থাকে। সেই স্বার্থগুলো কীভাবে সমন্বয় করা যায়, যাতে স্থায়ী সংঘাতের বদলে শান্তিতে থাকা যায় সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানি এয়ারলাইনসে মার্কিন ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা চীনের
নতুন অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের







