ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট তৈরির প্রোটোটাইপ নির্মাণের দৌড় থেকে ‘রুটিন কারিগরি শর্ত’ পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব আর কে সিং এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর কে সিং বলেন, কিছু সাধারণ কারিগরি শর্ত পূরণ করতে না পারায় এইচএএল যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে ঠিক কোন শর্তগুলো প্রতিষ্ঠানটি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
এবারই প্রথম ভারতের কোনও নিজস্ব যুদ্ধবিমান প্রকল্পে এইচএএলকে বাদ দেওয়া হলো। একই সঙ্গে এএমসিএ নির্মাণে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সিং বলেন, সবকিছু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে দেশে যুদ্ধবিমান উৎপাদনের দ্বিতীয় একটি লাইন তৈরি করাই এর লক্ষ্য।
তিনি জানান, তিনটি প্রযুক্তিগতভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠান বা জোট পাওয়া গেছে। এগুলো হলো টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড, এলঅ্যান্ডটি-বিইএল-ডাইনাম্যাটিকের জোট এবং ভারত ফোর্জ-বিইএমএল-ডাটা প্যাটার্নসের জোট।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এএমসিএ প্রকল্পে আগ্রহ দেখানো সাতটি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে তিনটি বাধ্যতামূলক কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করেছে। দুইটি ছোট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জোট করে আবেদন করা এএইচএল সেই তালিকায় জায়গা পায়নি।
প্রকল্পটির প্রোটোটাইপ (নমুনা) তৈরির পর্যায়ে প্রায় ১৫ হাজার কোটি রুপি ব্যয়, যা পুরোপুরি বহন করবে ভারত সরকার। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে পাঁচটি উড্ডয়নযোগ্য প্রোটোটাইপ এবং একটি কাঠামোগত পরীক্ষার বিমান তৈরি করতে হবে। প্রথম প্রোটোটাইপ ৩০ মাসের মধ্যে উড্ডয়নের লক্ষ্য রয়েছে এবং ৬৪ মাসের মধ্যে পাঁচটি প্রোটোটাইপ প্রস্তুত করার কথা।
এএমসিএ প্রকল্পে ডিজাইনের নিয়ন্ত্রণ ভারতের অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির হাতে থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যুদ্ধবিমানগুলোতে জেনারেল ইলেকট্রিকের এফ-৪১৪ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। একই ইঞ্জিন তেজস এমকে-২ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এএমসিএ প্রকল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। প্রতিরক্ষা সচিব আর কে সিং আশা প্রকাশ করেছেন, এএমসিএ-এর প্রথম প্রোটোটাইপ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে উড়তে পারে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে কোনও রাডার ফাঁকি দিয়ে চলতে সক্ষম স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। তবে সীমিতসংখ্যক রুশ সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি।
সূত্র: এনডিটিভ