ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জলসীমা থেকে ‘শত্রু বাহিনীকে’ তাড়িয়ে আরব সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই সেখান থেকেও তাদের বিতাড়িত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার বর্ষপূতি উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি এই দাবি জানান।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে না এলেও দেশটির গণমাধ্যম, বার্তা সংস্থা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, আমাদের সাহসী যোদ্ধা এবং হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের কাছ থেকে মারাত্মক আঘাত পেয়ে শত্রু বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। প্রতিবার তারা ঝুঁকি নিতে গিয়ে নিজেদের ক্ষতিই ডেকে এনেছে। সেই সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে যখন আরব সাগর থেকেও তাদের উপস্থিতি মুছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আজ কেউ কেউ আমাদের বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি হিসেবে দেখে। শত্রু বাহিনী যে অতীতে ফিরে যেতে চায়, সেই দিনগুলো আর কখনও ফিরবে না।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ওই সময় বৈপ্লবিক ইসলামের আদর্শের মাধ্যমে উপনিবেশবাদের বরফ গলে গিয়েছিল।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র মূল্যস্ফীতির মুখে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দর রেকর্ড ২৩ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর ফলে এই ধস নেমেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬১.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং খাদ্য পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ১২৮.১ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের অ্যাভিয়েশন খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে তেহরান। দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক প্রধান আবুজার শিরুদি ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানান, অ্যাভিয়েশন শিল্পের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং আমেরিকার বেআইনি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আমরা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ চিঠি জমা দিয়েছি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ