ভারতের দিল্লিতে আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত সহযোগী ও দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হেরোইন, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার নারী ৪২ বছর বয়সী পার্বতী। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ বছর বয়সী বিকাশ কুমার ওরফে শানুকে। উত্তর দিল্লির বাওয়ানার নিউ সানোথ কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পার্বতীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস আইন (এনডিপিএস) এবং আবগারি আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। নরেলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া থানার রেকর্ডেও তাকে ব্যাড ক্যারেক্টার হিস্ট্রি শিট এ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের আউটার নর্থ জেলার অ্যান্টি-নারকোটিকস স্কোয়াড গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ সানোথ কলোনিতে সক্রিয় একটি মাদক সরবরাহচক্রের বিষয়ে তথ্য পায়। এরপর পুলিশের একটি দল ওই কলোনির একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে পার্বতী ও তার সঙ্গে থাকা বিকাশ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের সময় পার্বতীর কাছ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপির বেশি মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়। নিয়াজের স্ত্রী পার্বতী নিউ সানোথ কলোনিতে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা বাওয়ানার জেজে কলোনিতে। তার সঙ্গে থাকতেন উত্তর দিল্লির বুরারির সন্তনগরের বাসিন্দা বিকাশ কুমার ওরফে শানু।
পুলিশের দাবি, বিকাশ পার্বতীর দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। মাদক পাচার থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পার্বতী একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তার মালিকানাধীন একটি টাটা হ্যারিয়ার গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
পার্বতীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার রুপি নগদ, ৩৫৫ গ্রাম সোনা, ১৬১ গ্রাম রুপা এবং চারটি সম্পত্তির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, মাদক পাচার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এসব নগদ টাকা, গহনা ও সম্পত্তি অর্জন করা হয়েছে। পুরো অভিযানে ১ কেজি ২০৪ গ্রাম হেরোইন, ৬৪ লাখ ৬২ হাজার রুপি নগদ, স্বর্ণ ও রুপার গহনা এবং দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ রুপির বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি