সম্প্রতি সীমান্তে ঘটা বিস্ফোরণে দেশটির দুই সেনা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে ঘটেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার দেশটির সামরিক বাহিনী এ কথা জানায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সুরক্ষা জোরদার করছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছর মাইন ও বেড়া বসাতে তারা সাত হাজার শ্রমিক মোতায়েন করেছে। এ সময় সীমান্ত অতিক্রমের প্রায় ৫০টি ঘটনা ঘটেছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ শান্তিচুক্তির বদলে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে শেষ হওয়ায় দুই কোরিয়া কারিগরিভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীপ্রধানদের ভাইস চেয়ারম্যান কওন দায়-ওন ব্রিফিংয়ে বলেন, জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে যৌথ তদন্তের ফলাফল ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, বিসামরিক অঞ্চলে (ডিএমজেড) নিয়মিত অভিযান পরিচালনাকালে আমাদের সেনারা গুরুতর আহত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়া তাদের তথাকথিত সুরক্ষা জোরদারের কাজের অংশ হিসেবে সামরিক সীমানা রেখার দক্ষিণে যে মানবঘাতি মাইন বসিয়েছিল, তাতেই এটি ঘটেছে। কওন জানান, ২১ সেপ্টেম্বর যে মাইনটি বিস্ফোরিত হয়েছে, সেটি প্রায় এক বছর আগে পোঁতা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার কাছে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে, মাইন বিস্ফোরণে আহত আমাদের সেনাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে বসানো মাইনগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিতে। তিনি আরও জানান, সোমবার সেনাবাহিনী উত্তর কোরিয়ার মাইন অপসারণে অভিযান চালিয়েছে। উত্তর কোরিয়া স্বেচ্ছায় মাইন না সরালে এই অভিযান চলবে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ কমান্ড জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ তদন্তে ৪ কিলোমিটার (২ দশমিক ৫ মাইল) প্রশস্ত ডিএমজেডকে দ্বিখণ্ডিতকারী সামরিক সীমানা রেখার দক্ষিণ কোরীয় অংশে উত্তর কোরিয়ার আরেকটি মানবঘাতি মাইন শনাক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ কমান্ড একে কোরীয় যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। সিউলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।