পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে দলটির প্রার্থী হাসি রানি রাথ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১ লাখের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। হাসি রানি রাথ শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগী চন্দ্রনাথ রাথের মা। ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ। রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শঙ্খরাভ সরকারও ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই আসনেই জেতার পর নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভবানীপুর আসনটি ছিল মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলে।
রাথ পেয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৭ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট। ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি ব্যবধানের এই জয় ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ড ছিল অধিকারীর নিজের। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তিনি ৮১ হাজার ২৩০ ভোটের ব্যবধানে আসনটি জিতেছিলেন।
রাজ্যে উপনির্বাচন হওয়া অপর আসন রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শঙ্খরাভ সরকারও ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন। অধিকারী বলেন, এটি সংখ্যালঘুদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার প্রমাণ। রেজিনগরে ৭০ শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, নন্দীগ্রামে এই হার ২৭ শতাংশ।
অধিকারী বলেন, বিজেপি প্রার্থী হাসি রানি রাথ নন্দীগ্রামে জিতেছেন এবং আমার রেকর্ড ব্যবধানও ছাড়িয়ে গেছেন। নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘুরা আমাদের সমর্থন করেছেন এবং আমাদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আমার অনুরোধ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রেজিনগরেও আমাদের প্রার্থী জিতছেন এবং সেখানে আমরা যে ভোট পেয়েছি, তার সিংহভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আমি রেজিনগরের মানুষকে শ্রদ্ধা জানাই এবং বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাতে চাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের, যার আওতায় যোগ্য নারীরা প্রতি মাসে ৩ হাজার রুপি পান।
তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠনের কয়েক মাস পর বিজেপির কর্মক্ষমতা জনগণ মেনে নিয়েছে কিনা, তা বুঝতে উপনির্বাচন দুটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস কয়েক ভাগে ভাগ হওয়ার পর বিরোধীরা কেমন ফল করে, তাও ছিল আগ্রহের বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস আলাদাভাবে উপনির্বাচনে লড়েছে।
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। অধিকারী ও বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর তিনি এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। প্রার্থীবিহীন হয়ে পড়া মমতা-গোষ্ঠী কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রধানকে পরে একটি পুরোনো হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং এরপর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়। তিনি ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের এহতেশামুল হক মাত্র ৮৪৩ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন।
রেজিনগরে উপনির্বাচন হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায়। তৃণমূলের বিদ্রোহী এই নেতা পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি নওদাতেও জেতার পর রেজিনগর আসনটি ছাড়েন। দলটির হয়ে লড়েছেন তার ছেলে গোলাম নবি আজাদ, তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯৮ ভোট। বিজেপির শঙ্খরাভ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯১৪ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী তৃতীয় হয়েছেন। এরপর যথাক্রমে ছিল মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআই (এম) ও ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস।