২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে বিরোধী নেতাদের নির্দেশ রাহুলের

ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা যাই হোক না কেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। একই সঙ্গে নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো ঐতিহাসিক প্রতিবাদ স্থলের মর্যাদা বাতিল করার সরকারি পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সুনেহরি বাগে বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে এক চা-চক্র বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সাগরিকা ঘোষ, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত এবং ছাত্র ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা দেওয়ার পর আন্দোলন পর্যালোচনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাহুল গান্ধী উপস্থিত সব দলের নেতাদের যেকোনও মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজপথে নামার প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। তাদের একটি দায়িত্ব রয়েছে এবং আমরা আশা করি তারা তা পালন করবেন। তবে যাই ঘটুক না কেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ থামবে না এবং এই লড়াইয়ের জয় হবেই।

ভোট চুরির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি এর প্রধান পরিকল্পনাকারী, অমিত শাহ তা বাস্তবায়নকারী এবং জ্ঞানেশ কুমারসহ অন্যরা এর সঙ্গে যুক্ত। তারা যেন বুঝতে পারেন যে আইনের জাল গুটিয়ে আসছে এবং সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচির মর্যাদা বাতিলের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ স্থলের মর্যাদা বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকারের ভয়ই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সিপিআই (এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এক্স-এ লিখিছেন, যন্তর মন্তরের মর্যাদা বাতিল করে মোদি-শাহ-ভগবত ত্রয়ী যদি মনে করে যে প্রতিবাদ তারা অদৃশ্য করে দেবে, তবে তারা ভুল ভাবছে।

অন্যদিকে এআইএসএ প্রধান নেহা বোরা বলেন, দেশবাসীর মূল শত্রু বিজেপি। সংবিধান তৈরিতে বিজেপির কোনও ভূমিকা ছিল না, তারা দেশদ্রোহিতা করেছে।

তৃণমূল নেত্রী সাগরিকা ঘোষ জানান, ভোট চুরির বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দিনগুলোতে বিরোধী জোটের প্রতিটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে পদযাত্রার চেষ্টা চালানো হবে। এছাড়া আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি যৌথ সমাবেশের সময় ‘প্রতীকী সংসদ অধিবেশন’ বসিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘অভিশংসন’ করার একটি প্রস্তাবও আলোচনায় উঠেছে।