চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করা, রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের নেতারা। শনিবার চীনের সীমান্তবর্তী শহর তানতোং সফরকালে চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চীনের গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিং বলেন, কোরীয় যুদ্ধে চীনা গণ-স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর অংশগ্রহণের ৭৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে কিমের তানতোং সফর চীন-উত্তর কোরিয়ার রক্তের বন্ধনে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের গুরুত্বের প্রতিফলন। এ সফর দুই দেশের জনগণের বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে এবং চলতি বছরের জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও কিম জং উনের পারস্পরিক সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন ঐতিহাসিক পর্যায়ে উন্নীত করেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে চীন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
জবাবে কিম জং উন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের সাফল্য কামনা করেন।
কিম বলেন, ইতিহাসের সংকটময় সময়ে উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করতে জীবন উৎসর্গকারী চীনা গণ-স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তার এই বিশেষ সফর। তাদের আত্মত্যাগের জন্য উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও চিরন্তন শ্রদ্ধা জানান তিনি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গত জুনে উত্তর কোরিয়া সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন কিম। এ বছর দুই দেশের মৈত্রী, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার সমাজতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিনের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
কিম আরও বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের উন্নয়ন অর্জন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে উত্তর কোরিয়া। ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব বজায় রাখা, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে চীনের সঙ্গে কাজ করতে পিয়ংইয়ং প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সূত্র: সিএমজি