অভিনেতা থেকে রাজনীতিকে পরিণত হওয়া সি জোসেফ বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাস পর, তামিল সিনেমা শিল্পের আরেক জনপ্রিয় তারকা ধানুশকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে ধানুশের দুটি বৈঠকের তথ্য সামনে আসার পর থেকেই তার রাজনীতিতে পদার্পণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা না দিলেও, ধানুশের ভক্ত নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক সাংগঠনিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তার ফ্যান ক্লাব ধানুশ নরপণি মণ্ডপম-কে ঢেলে সাজিয়ে ধানুশ নরপণি ইয়াক্কাম বা ধানুশ কল্যাণ আন্দোলন নামে রূপান্তর করা হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে ২৫০০-র বেশি নারী সমর্থকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সাদা শার্ট ও ধুতি পরা ধানুশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান, ছবি তোলেন এবং রূপার কামাক্ষী প্রদীপ উপহার দেন। অনুষ্ঠানে রাজনীতিতে আসা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনও মন্তব্য না করে তিনি কেবল দিওয়ালির শুভেচ্ছা জানান।
বিজয় যেভাবে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, ধানুশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেও তার স্পষ্ট ছায়া দেখা যাচ্ছে। বিজয় তার ফ্যান ক্লাবকে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম-এ রূপান্তরিত করেছিলেন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তার দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) গঠনের ভিত্তি হয়। ধানুশও শিক্ষাভিত্তিক পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রূপালী পর্দায় বিজয়ের ভাবমূর্তি ছিল অপরাজেয় এক নায়কের, যিনি যেকোনও সংকট সমাধানে হাজির হন। অন্যদিকে ২০০২ সালে ‘থুল্লুভাধো ইলামাই’ চলচ্চিত্র দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা ধানুশ কাধাল কোন্দেন, আদুকালাম, আসুরান ও কারনানের মতো চলচ্চিত্রে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক লড়াই ফুটিয়ে তুলেছেন।
ধানুশের এই তৎপরতা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি মানিকাম টেগোর অভিযোগ করেছেন, এটি বিজেপি-আরএসএসের ‘প্ল্যান সি’ বা ‘অপারেশন ডি’-এর অংশ, যার মাধ্যমে তারা রাজ্যে নতুন এক অভিনেতাকে রাজনীতিতে নামানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে নেতা এস রঘুনাথী জানান, গণতন্ত্রে বিজয়ের মতো ধানুশেরও রাজনীতিতে আসার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এআইএডিএমকে নেতা কে টি রাজেন্দ্র বালাজি প্রকাশ্যে ধানুশকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এমনকি রবিবারের সভায় উপহার দেওয়া প্রদীপে খোদাই করা পদ্মফুল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস