শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে সরাসরি ও কার্যকর উপায় হলো সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ করা। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং।
তিনি বলেন, সংঘাতের সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতি মেনে চলতে হবে, শত্রুতা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু ও বিদ্যালয়সহ বেসামরিক মানুষ এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ফু ছোং বলেন, সব পক্ষের উচিত অভিন্ন, সার্বিক, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তার ধারণা অনুসরণ করা। সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সংঘাতকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং সেখানে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও মানসিক সেবা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন চীনা প্রতিনিধি।
ফু ছোং উল্লেখ করেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, হাইতি ও অন্যান্য অঞ্চলের শিশুরা সংঘাত ও সহিংসতার সম্মুখসারিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা গুরুতর অধিকার লঙ্ঘন ও নানা হুমকির শিকার হচ্ছে। শিশুদের বিরুদ্ধে নির্বিচার নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগকে সমর্থন করে চীন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ভেনেসা ফ্রেজিয়ারের দায়িত্ব পালনের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য প্রথম বিশেষ দূত হিসেবে জাইনাবা জাগনের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। সংঘাতকবলিত দেশগুলোর শিশু সুরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
সূত্র: সিএমজি