যে শহরকে বলা হয় ‘ভারতের লন্ডন’

খাবার কিংবা সমৃদ্ধ ইতিহাস, নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহর পরিচিতি লাভ করে। তবে পূর্ব ভারতের একটি শহরে আজও টিকে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের জমকালো সব স্থাপত্য, ব্যস্ত বাজার, পুরোনো বইয়ের দোকান আর ঐতিহ্যের গন্ধ মাখা পাড়াগুলো। ঔপনিবেশিক যুগের সঙ্গে গভীর যোগসূত্র এবং শহরের আকাশচুম্বী বহুতল ভবনজুড়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবনের কারণে এই নগরীটি ‘ভারতের লন্ডন’ নামে পরিচিত।

পূর্বে ‘ক্যালকাটা’ নামে পরিচিত এই শহরটি ১৯১১ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। এখানকার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার আজও শহরটির ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।

কলকাতার ঐতিহাসিক রূপটি দেখতে খুব বেশি গোছানো পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। কিছু প্রধান ল্যান্ডমার্ক ঘুরে দেখার পাশাপাশি এর অলিগলি ঘুরে দেখার মজাই আলাদা:

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: রানি ভিক্টোরিয়ার স্মরণে নির্মিত কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত এই ল্যান্ডমার্ক। এর ভেতরের জাদুঘরে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয় এবং চারপাশের বিশাল বাগানগুলো স্বস্তিদায়ক হাঁটার জন্য চমৎকার।

সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশেই অবস্থিত এই গির্জাটি এর গথিক স্থাপত্যশৈলী এবং রঙিন কাচের জানালার জন্য পরিচিত। ১৯ শতকের এই ভবনটি শহরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাওড়া ব্রিজ: হুগলি নদীর ওপর কলকাতা ও হাওড়াকে সংযোগকারী এই ব্রিজ শহরের অন্যতম প্রধান প্রতীক। নদীর পাড় ধরে হাঁটলে ব্রিজ ও চারপাশের ব্যস্ততার দারুণ দৃশ্য দেখা যায়।

জেনারেল পোস্ট অফিস: বিবাদী বাগ বা বিবিডি বাগে অবস্থিত এই জিপিও এর সুবিশাল গম্বুজ ও চমৎকার স্থাপত্যের জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ে। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ভবনই নয়, বরং আজও নিয়মিত পোস্ট অফিস হিসেবে সচল রয়েছে।

ইতিহাসের পাশাপাশি কলকাতা তার প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও খাবারের জন্যও অনন্য। পার্ক স্ট্রিট তার রেস্তোরাঁ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিখ্যাত, অন্যদিকে কলেজ স্ট্রিট বইপ্রেমীদের টানে সারি সারি বইয়ের দোকান দিয়ে। শহরের সুস্বাদু কাঠি রোল কিংবা রসগোল্লার স্বাদ নেওয়া ছাড়া ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এছাড়া দুর্গাপূজার সময় শহরটিতে গেলে এর সবচেয়ে বড় বার্ষিক উৎসবের রূপটি সরাসরি উপভোগ করা যায়।

সূত্র: এনডিটিভি