খাওয়ার জন্য নয়, দামি এই চীনা আখরোট শুধুই ঘোরানোর জন্য

আট বছর আগে ইতালির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ক্যারোলিনা ডি কন্ডিওর যখন তার হবু স্বামীর (যিনি একজন চীনা) সঙ্গে পরিচয় হয়, তখন তিনি একটি অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করেন। তার স্বামী সব সময় হাতের তালুতে দুটি আখরোট ঘোরাতেন। কৌতুহলী হয়ে ডি কন্ডিও যখন জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি এগুলো ভেঙে খেতে পারি?’ তখন স্বামীর মুখের বিস্ময় ও আতঙ্কই ছিল দেখার মতো!

এভাবেই ডি কন্ডিওর পরিচয় ঘটে চীনের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়েনওয়ান’ আখরোটের সঙ্গে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘খেলনা আখরোট’। এগুলো কিন্তু খাওয়ার জন্য নয়। শতাব্দী প্রাচীন চীনা শখ হিসেবে হাতের তালুতে ঘোরানোর জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় আখরোটগুলো চাষ ও বাছাই করা হয়। দীর্ঘদিন হাতের তালুতে ঘোরানোর ফলে খোসা ধীরে ধীরে মসৃণ ও চকচকে হয়ে একসময় সংগ্রহে রাখার মতো মূল্যবান সামগ্রীতে পরিণত হয়।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডিওর-এর একটি নিমন্ত্রণপত্রে জোড়া আখরোটের ছবি দেখে বিলাসবহুল কারুশিল্পের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পান ডি কন্ডিও। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যত্ন নেওয়া ও ঘোরানোর ফলে আখরোটের গায়ে যেমন ধীরে ধীরে নিজস্ব ঔজ্জ্বল্য তৈরি হয়... সুন্দর জিনিসের মূল্য অনেক সময় এর পেছনে দেওয়া সময়, কারুশিল্প ও যত্নের মধ্যেই নিহিত থাকে।

হ্যাবেই প্রদেশের ৩৬ বছর বয়সী আখরোট ব্যবসায়ী ওয়াং হোংতুও জানান, একটি ভালো আখরোটের আকৃতি ভারসাম্যপূর্ণ এবং খাঁজগুলো সমান হওয়া চাই। জোড়া মেলাতে দুটি আখরোটের মধ্যে হুবহু সাদৃশ্য থাকা জরুরি। ওয়াং ৫ বছর আগে ৯টি খাঁজযুক্ত একটি বিশেষ আখরোট পান এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্য ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ঠিক একই বৈশিষ্ট্যের আরেকটি আখরোটের সন্ধান পেয়ে জোড়া পূর্ণ করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর স্থানীয় প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী আকৃতি বিভাগে জোড়াটি প্রথম পুরস্কার জেতে। পরে এই জোড়াটির জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ানের (৬৭ হাজার ৬৭০ ডলার) বিশাল প্রস্তাব এলেও তা ফিরিয়ে দেন ওয়াং।  

সংগৃহীত সামগ্রী হিসেবে ওয়েনওয়ান আখরোটের ঐতিহ্য নতুন নয়। মিং (১৩৬৮-১৬৪৪) ও ছিং (১৬৪৪-১৯১১) রাজবংশের আমলে পণ্ডিত ও ধনী সংগ্রাহকদের হাত ধরে এর ব্যাপক প্রসার ঘটে। বর্তমানে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের বদৌলতে চীনের বাইরেও এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।

মাঝে মধ্যে স্বামীর আখরোট ঘোরানো ডি কন্ডিও হাসতে হাসতে জানান, ছোট হাতের কারণে তার নিজের জন্য হয়তো একজোড়া হ্যাজেলনাট লাগবে। ইতালির লা ডলসে ভিটা (জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করা) ধারণার সঙ্গে এর মিল তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশনের এই যুগে এমন শখ হতে পারে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে বের হওয়ার এক অনন্য মাধ্যম।

সূত্র: সিএমজি