দিওয়ালির আগে মিষ্টি, ঘি, ড্রাই ফ্রুটস ও উৎসবের নানা খাবারের চাহিদা বাড়ার সুযোগে মহারাষ্ট্রজুড়ে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে রাজ্যটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের বিশেষ অভিযানে মোট ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ রুপি মূল্যের ৩ হাজার ৯৮ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন ভেজাল ও অননুমোদিত খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয়েছে।
এফডিএ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে রাজ্যের ৯ হাজার ৬৬৭টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫৪টি খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স ও নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে, আরও ২৫টি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ৪ হাজার ৬০৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইমপ্রুভমেন্ট নোটিশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার জন্য মোট ৮ হাজার ৮৩৫টি খাদ্য নমূনা সংগ্রহ করা হয়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে অর্থমূল্যে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লবণ, মসলা ও মশলাজাতীয় দ্রব্য, যার পরিমাণ ২১ কোটি ৯ লাখ রুপি। এ ছাড়া ১৬ কোটি ৩১ লাখ রুপির ভোজ্যতেল, ৭ কোটি ৬৩ লাখ রুপির দুধজাত পণ্য (ঘি ও মাওয়া) এবং ৭ কোটি ৪৭ লাখ রুপির ড্রাই ফ্রুটস জব্দ করা হয়েছে।
বিশেষ করে গত ১৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দিওয়ালি উৎসবকে কেন্দ্র করে চালানো বিশেষ অভিযানেই মোট জব্দের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৪৪ কোটি ৩৭ লাখ রুপি মূল্যের ১ হাজার ৮৮৬ দশমিক ৪৪ মেট্রিক টন পণ্য জব্দ করা হয়। শুধু গ্রেটার মুম্বাই অঞ্চলেই ১ হাজার ৩৭টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রায় ৯২ লাখ ৮২ হাজার রুপি মূল্যের পণ্য জব্দ এবং ৭৬টি লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।
ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে এফডিএ জানিয়েছে, সিন্থেটিক বা ভেজাল মাওয়া, পনির বা ঘি হিসেবে উদ্ভিজ্জ চর্বিযুক্ত পণ্য বিক্রি, মিষ্টিতে অননুমোদিত রঙ ব্যবহার, রূপার পাতার পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার, বারবার ভাজার তেল ব্যবহার, ড্রাই ফ্রুটসের ওপর কৃত্রিম রঙের প্রলেপ এবং গিফট হ্যাম্পারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পুনরায় প্যাক করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নজর রাখতে হবে।
শুধু সাধারণ বাজার বা সুপারমার্কেট নয়, এই অভিযান অনলাইন অর্ডার, ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং সেগুলোর ডার্ক স্টোরগুলোতেও পরিচালনা করা হয়েছে। এফডিএ নির্দেশনা দিয়েছে যে, গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা খাবারের মেয়াদ ডেলিভারির সময় অন্তত ৩০ শতাংশ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্তত ৪৫ দিন বাকি থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ডার্ক স্টোর ও ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে আলাদা বৈধ এফএসএসএআই লাইসেন্স থাকতে হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস