২৫০ বছরের পুরনো দোকান কেন এখনও কলকাতায় বিখ্যাত, কী পাওয়া যায় সেখানে?

ভোজনরসিকদের প্রিয় শহর ‘সিটি অব জয়’ কলকাতা। রসগোল্লা কিংবা বিরিয়ানিপ্রেমী; সবার জন্যই শহরটি এক অনন্য গন্তব্য। শহরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু পুরনো দোকান দশকের পর দশক ধরে ভোজনরসিকদের সেবা দিয়ে আসছে। তেমনই এক দোকান শ্যামবাজারের নিরিবিলি কোণে অবস্থিত আড়াইশ বছরের পুরনো ‘আদি হরিদাস মোদক’। সনাতনী উপায়ে কলার পাতায় পরিবেশন করা লুচি ও কচুরির জন্য বিশ্বজুড়ে নাম রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের।

১৭৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আদি হরিদাস মোদক বর্তমানে মোদক পরিবারের ষষ্ঠ প্রজন্ম পরিচালনা করছেন। প্রথাগত বাঙালি প্রাতরাশের জন্য এটি যুগের পর যুগ ধরে বিশ্বস্ত এক নাম। লুচি, কচুরি ও আলুর তরকারির সঙ্গে সঙ্গে এই দোকানে মিলবে নানা পদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও ভাজাভুজি।

দোকানটি প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। সামনের কাউন্টারে মিষ্টির দোকান এবং পেছনে কাস্টমারদের বসে খাওয়ার ডাইনিং হল। কাঠের বেঞ্চগুলো পরিবেশনে প্রাচীন আমেজ ও অতীত স্মৃতির ছোঁয়া এনে দেয়। ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিলানের এক ভিডিওতে দেখা যায় কীভাবে তাজা তেলে গরম লুচি ভেজে কলার পাতায় পরিবেশন করা হয়। তিনি জানান, এখানকার লুচি ও আলুর তরকারির স্বাদ অত্যন্ত চমৎকার। প্রাতরাশের পাশাপাশি থালায় কলার পাতায় পরিবেশন করা হয় মিষ্টি দই ও অন্যান্য মিষ্টি।

এখানে এলে যে পদগুলো চেখে দেখা আবশ্যক, তার মধ্যে রয়েছে:

কালোজাম: গোলাপ জামের মতো সুস্বাদু মিষ্টি।

সরভাজা: ঘন ক্ষীর ভেজে সিরায় ডুবিয়ে তৈরি মিষ্টি।

ছানার জিলাপি: ছানা দিয়ে তৈরি মুচমুচে ঐতিহ্যবাহী জিলাপি।

এ ছাড়া অন্যান্য পদের পাশাপাশি এদের ছোলার ডালও বেশ নামকরা।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানটি খোলা থাকে। তবে ভিড় এড়াতে সকাল সকাল যাওয়া ভালো এবং সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে অপেক্ষার সময় তুলনামূলক কম থাকে। আড়াই শতক পেরিয়েও পুরনো সেই ঐতিহ্য আর স্বাদ সযত্নে ধরে রেখেছে শ্যামবাজারের এই ঐতিহাসিক দোকানটি।

সূত্র: এনডিটিভি