চীনা বিজ্ঞানীদের একটি দল একটি ব্যাপক ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন। একটি প্রবল ভূমিকম্পের কারণে এত বড় অঞ্চল জুড়ে ওই ভূমিকম্পটি হয়েছিলো যে, এতে ইয়েলো রিভার পুরোপুরি ঢেকে যায় ও সেখানে জনপদ গড়ে ওঠে, যা বর্তমানে কিংঘাই প্রদেশ নামে পরিচিত।
বিজ্ঞানীরা প্রাচীন পলি থেকে প্রমাণ পেয়েছেন, সময়ের সঙ্গে মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া ওই নদীটি ভূগর্ভস্থ হ্রদ সৃষ্টি করে।ওই ভূগর্ভস্থ জলাধার বাঁধকে চাপ দেয় ও প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার এলাকা ভাসিয়ে নেওয়া বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞান পত্রিকায় বিজ্ঞানীরা লেখেন, ইয়েলো নদীর তটে খুঁজে পাওয়া শিশুদের কঙ্কালের কার্বন পরীক্ষা করে বোঝা যায়, পুরাণে বর্ণিত ওই ‘মহাপ্লাবন’ ঘটেছিলো ১৯২০ খ্রিস্টপূর্বে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভূমিকম্পের ফলে মাটিতে যে গভীর খাঁজ সৃষ্টি হয়েছিলো, বন্যার পলি জমে বছরখানেকের মধ্যেই তা ভরাট হয়ে যায়।
এশিয়ার তৃতীয় দীর্ঘতম এই নদীর প্লাবন গত ১০ হাজার বছরে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া প্রধান প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। চীনা পুরাণে এই মহাপ্লাবন ও জিয়া রাজবংশকে সম্পৃক্ত করে চৈনিক সভ্যতার সূচনা বর্ণনা করা হয়েছে।
নানজিং নরমাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও প্রধান লেখক উ কিংলং বলেন, ‘এর আগে এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
প্রচলিত ইতিহাস ও উপকথায় ইয়ু নামের এক বীর নদীগর্ভ খনন করে বন্যা দমন করেন। বিজ্ঞানী কিংলং বলেন, ‘সেই বীরকে ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ মেনে নিয়ে জিয়া রাজবংশের সূচনা হয়।’
কিছু কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন, প্রকৃতপক্ষেই জিয়া রাজবংশের অস্তিত্ব ছিল। তাম্র যুগ থেকে লৌহযুগে রুপান্তরের কাছাকাছি সময়ে ওই রাজবংশের শাসন ছিল। তবে এ ধারণার কোনও লিখিত প্রমাণ নেই। ৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত চীনের লিখিত নথি ও ইতিহাস পাওয়া যায়।
ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ডেভিড কোহান বলেন, এই ভূমিকম্প ও ভূমিধসের প্রমাণ থেকে ধারণা করা যায়, জিয়া রাজবংশের অস্তিত্ব আসলেই ছিল।
প্রসঙ্গত, মহাপ্লাবনের উল্লেখ অনেক জাতির পুরাণেই পাওয়া যায়। হিন্দু বৈদিক সাহিত্য ও বাইবেলে বর্ণিত নোয়ার প্লাবন থেকে ধারণা করা যায়, প্রাগৈতিহাসিক যুগে প্রায়ই বরফ গলে মহাপ্লাবন উপস্থিত হতো। সূত্র: গার্ডিয়ান
/ইউআর/এএ/