শাটডাউন ইস্যুতে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ও মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত দেশটির বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে শাটডাউনকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ‘ভয়াবহ ত্রুটি’ বলে। লিও চ্যাং নামের লেখক মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে শনিবার যা ঘটেছে তা ওয়াশিংটনের নেতৃত্বের জন্য একটি চপেটাঘাত।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে মার্কিন ফেডারেল এজেন্সিগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দের বাজেট প্রস্তাব সিনেটের ভোটাভুটিতে আটকে গেলে দেশটির সরকারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয় (শাটডাউন)।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে চতুর্থবারের মতো এই শাটডাউন রিপাবলিকান আর ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক যুদ্ধের আরেকটি ফল।
সিনহুয়া বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন আগের বারাক ওবামা প্রশাসনের সব উল্লেখযোগ্য নীতি থেকে সরে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, ট্রান্স প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি। আর এসবের মধ্যে যদি কোনও আইনগত ভিত্তি থেকে থাকে তাহলে সেটা হলো ক্ষমতার পালাবদল। আর এটা দলীয় অসহযোগিতার ভিত্তি থেকে উৎসারিত।
২০১৩ সালে ওবামা হেলথকেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধের সময়ে মার্কিন ফেডারেল সরকার শাটডাউনের মুখে পড়ে। আর এখন আরও একটা শাটডাউনের মুখে তারা। আর বড় দুটি রাজনৈতিক দল কাজ না করার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। লেখা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাকে জিইয়ে রেখে তাদের এই নির্মম প্রতিদ্বন্দ্বীতাকে ধন্যবাদ।
গত বছর বন্দুক হামলার সমস্যা অস্থিরতা বাড়িয়েছে, সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক বেশি মেরুকরণ হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, পশ্চিমের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উন্নত বিশ্ব প্রায় সঠিক এক ব্যবস্থা বলে প্রশংসা করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, এটাই দেশ চালানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আজ যা ঘটছে তাতে এই বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থার যৌক্তিকতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে।
সিনহুয়া বলছে, একটি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো, কীভাবে মানুষের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে, কাকে দোষ দেওয়া হবে তা নিয়ে ঝগড়া করা না।