চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৩ শতকের একটি মসজিদের গম্বুজ ও মিনার ভাঙার প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় হাজারো মুসলিম। স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের কাজে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
এই মসজিদটি সংখ্যালঘু হু জাতিগোষ্ঠীর এবং নাজিয়াইং গ্রামে অবস্থিত। এটি ইউনান প্রদেশের একটি গ্রাম। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ধর্মকে চীনাকরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রদেশটিকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই নীতির আওতায় ধর্মীয় বিশ্বাসে বিদেশি প্রভাব মুছে ফেলা হচ্ছে এবং প্রচলিত চীনা সংস্কৃতির আদল দেওয়া হচ্ছে। চীনের ক্ষমতায় থাকা কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নাস্তিক।
হুই অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে কর্তৃপক্ষ ইসলামি অনেক স্থাপনা অপসারণ করেছে, দেশজুড়ে সহস্রাধিক মসজিদের গম্বুজ ও মিনার ধ্বংস করা হয়েছে। নাজিয়াইং গ্রামের মসজিদটিতে শেষ গম্বুজ ও মিনার রয়েছে।
ইউনানের নাজিয়াইং গ্রামটি ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মসজিদের গম্বুজ ও মিনার অপসারণের উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয়রা দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ মসজিদের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের ব্যাটন ও ঢাল দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছে।
এ সময় স্থানীয় ক্ষোভে চিৎকার করছেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ইট নিক্ষেপ করতেও দেখা গেছে।
এক ব্যক্তি বলেন, বিষয়টি আমাদের বাড়ি ধ্বংস করতে আসার মতো। আমরা তা হতে দিতে পারি না। শনিবার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হুই জাতিগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষ মসজিদ ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, মসজিদে গিয়ে দেখি তারা ক্রেন নিয়ে এসেছে এবং গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। দুপুরে নামাজ পড়তে স্থানীয়রা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ অনেককে ব্যাটন দিয়ে আঘাত করে। ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।